Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেখুরিয়া গ্রামে মা জগদ্ধাত্রীর পুজোর প্রস্তুতি ঘিরে উন্মাদনা

দেখুরিয়া গ্রামে মা জগদ্ধাত্রীর পুজোর প্রস্তুতি ঘিরে উন্মাদনা
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটের দেখুরিয়া গ্রামের জগদ্ধাত্রী পুজোকে ঘিরে প্রতি বছর মানুষের মধ্যে উৎসাহ চরমে ওঠে। জেলার প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম পুজো হল এটি। এবছরও তার কোনও ব্যতিক্রম হয়নি। একদা তালপাতার ছাউনি গড়ে চাল বিক্রির টাকায় পথচলা শুরু হয়েছিল। কয়েকশো বছর পেরিয়ে আজ সেটি বিগ বাজেটের পুজোয় পরিণত হয়েছে। 
Advertisement
দেখুরিয়া গ্রামে মা জগদ্ধাত্রী ইষ্টদেবী। তাই ইষ্টদেবীর আরাধনা উপলক্ষ্যে সেজে উঠতে শুরু করেছে গোটা গ্রাম। চন্দননগরের মতো অতটা ধুমধাম না হলেও এই পুজোকে ঘিরে দেখুরিয়া সহ জেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের উন্মাদনা কম হয় না। কথিত আছে, দেখুরিয়া গ্রামে অধিকাংশ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের বসবাস। এই গ্রামে কাপালিক শতঞ্জীব ভট্টাচার্যের প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন কালীপুজো এখনও হয়ে আসছে। আগে আটলা গ্রামে নিজের বাড়ির পুজো শেষে দেখুরিয়া কালীমন্দিরে আসতেন সাধক বামাখ্যাপা।  গ্রামের একটা অংশ কালী মন্ত্রে, আরেকটা অংশ জগদ্ধাত্রী মন্ত্রে দীক্ষিত। বহু বছর আগে দক্ষিণাকালীর পুজোর সঙ্গে শুরু হয় জগদ্ধাত্রী মায়ের আরাধনা। প্রথম দিকে গ্রামের মঙ্গল কামনায় তালপাতা দিয়ে ঘেরা জায়গায় অস্থায়ী বেদি বানিয়ে তন্ত্রমতে মায়ের আরাধনা হলেও বর্তমানে স্থায়ী বেদি নির্মাণ হয়েছে। এখানে দক্ষিণাকালী গ্রাম্যদেবতা, আর জগদ্ধাত্রী মা ইষ্টদেবী। 
পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা পুলক চট্টোপাধ্যায়, পার্থসারথী মুখোপাধ্যায়, চঞ্চল মুখোপাধ্যায়, সোমেশ্বর ভট্টাচার্যরা বলেন, আগে পুজো উপলক্ষ্যে প্রতিটি বাড়ি থেকে চাল সংগ্রহ করা হতো। সেই চাল বিক্রির টাকায় মায়ের আরাধনা হতো। এখন রামপুরহাট সহ আশপাশের এলাকা ও গ্রামের সকলের আর্থিক সহায়তায় এই পুজো হয়। 
২০১৭ সালে ৩১ লক্ষ টাকায় মন্দির চত্বর সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মঞ্চ তৈরি করে দেয় টিআরডিএ। সেখানেই মণ্ডপ ও মূর্তি গড়ে পুজো করে আসছেন গ্রামবাসীরা। বর্তমানে পুজোয় লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। যত দিন যাচ্ছে তত পুজোর বাজেটও বাড়ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে জৌলুস ও জাঁকজমক। এলাকার মানুষের কাছে দুর্গাপুজোর থেকেও এই জগদ্ধাত্রী পুজোর উন্মাদনা অনেক গুণ বেশি। উৎসবের দিনগুলোয় গোটা এলাকা গমগম করে। বিয়ে বা কর্মসূত্রে অন্যত্র চলে যাওয়া মানুষ এই সময়টায় ফিরে আসেন নিজের গ্রামে। পুজো উপলক্ষ্যে গ্রামে বসে মেলা। 
আগামী রবিবার একসঙ্গে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পুজো হবে। ওইদিন ভোরে গ্রামের মহিলা ও কুমারীরা শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিয়ে এক কিমি দূরের দ্বারকা নদ থেকে ঘট ভরে নিয়ে আসবে। থাকবে ২৫টির বেশি ঢাক। ওইদিন চারটি ছাগ বলি হবে। রাতে হাজার পাঁচেক মানুষকে পাত পেড়ে ভোগ খাওয়ানো হবে। দশমীর দিন মণ্ডপ চত্বরেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার গ্রাম প্রদক্ষিণ করিয়ে দেবীকে নিরঞ্জন দেওয়া হবে।  
পুজো কমিটির সদস্য সুভাষ মুখোপাধ্যায়, অমিতাভ ভট্টাচার্যরা বলেন, এবার মন্দিরের আদলে মণ্ডপসজ্জা করা হচ্ছে। আলোকসজ্জাতেও থাকবে চমক। পুজোর তিনদিন মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয় এই গ্রাম।  
সম্পর্কিত সংবাদ