Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দখলকারীদের লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ

দখলকারীদের লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: জমি নিয়ে যত ‘গন্ডগোল’ সেই গন্ডগোল মৌজাতেই! অভিযোগ, কোটি কোটি টাকার জমি দখল করে গড়া হচ্ছে বসতি। এরপর সুকৌশলে আদায় করা হচ্ছে জমির লিজ। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের একাংশের মদতে জমি নিয়ে এমন ‘ঘোটালা’ চলছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের একাংশ। সম্প্রতি তাঁরা বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির বৈঠকে এনিয়ে সরব হন। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গোটা ঘটনায় মহকুমায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
Advertisement
নেপাল সীমান্তবর্তী মেচি এলাকায় গন্ডগোল মৌজা। সংশ্লিষ্ট এলাকা খড়িবাড়ি ব্লকের রানিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। সংশ্লিষ্ট মৌজায় চা বাগানের জমি দখল করে বসতি গড়ে তোলার অভিযোগ বহুদিনের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে সংশ্লিষ্ট মৌজায় ৭.২৯ একর জমি কব্জা করে বসতি গড়ে তোলা হয়। সেই সময় বিভিন্ন মহলের চাপে পড়ে কোটি কোটি টাকা দামের সেই জমি দখলকারীদের লিজ দিতে বাধ্য হয় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। এরপর সেখানে আরও প্রায় তিন একর জমি দখল হয়। এবার তা লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর শুরু করতেই বেঁকে বসেছে মহকুমা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। এদিন বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির বৈঠকে এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিষদের সদস্যরা।
মহকুমা পরিষদের একাংশের অভিযোগ, গন্ডগোল মৌজায় জমি নিয়ে ঘোটালা হচ্ছে। যার সঙ্গে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের একাংশ জড়িত রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বৈঠকের পর মহকুমা পরিষদের বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ কিশোরীমোহন সিংহ বলেন, একবার চা বাগানের জমি দখলকারীদের লিজ দেওয়া হয়েছে। আবার সেখানেই জমির দখলকারীদের লিজ দেওয়ার উদ্যোগ মানা যায় না। অ্যাকশন না নিয়ে এভাবে জমি লিজ দিলে দখলকারীরা আস্কারা পেয়ে যাবে। এতে মহকুমা পরিষদের ল্যান্ড ব্যাঙ্কে ক্ষতি হবে। তাই সেই জমি উদ্ধারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হব। শীঘ্রই এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠাব।
এদিন স্থায়ী সমিতির বৈঠকে মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ, অতিরিক্ত জেলশাসক নির্মাল্য ঘরামি, মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক টিনা ডুকপা, খড়িবাড়ি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক প্রতিমা সুব্বা প্রমুখ হাজির ছিলেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট জমির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক। খড়িবাড়ির ব্লক ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তরের আধিকারিক প্রতিমা সুব্বা বলেন,ঘোটালার অভিযোগ ঠিক নয়। দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের নির্দেশ মতো সংশ্লিষ্ট জমি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জমির সাত বছরের ভাড়া এবং বর্তমান জমির দাম অনুসারে লিজের ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ