সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ডিজিটাল অ্যারেষ্ট-এর ফাঁদ থেকে সাধারণ মানুষকে লাগাতার সচেতন করছে পুলিস এবং প্রশাসন। তার একধাপ এগিয়ে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র তৈরি করল ইসলামপুর পুলিস। তাদের সেই ভিডিও স্থান পেয়েছে রাজ্য পুলিসের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে। এতে বহু মানুষ সচেতন হয়ে সাইবার প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবে বলে পুলিসের দাবি। হিন্দি ভাষায় ৮ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের সেই তথ্যচিত্রে ইসলামপুর থানার আইসি হীরক বিশ্বাস সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভ ১০ জন যুবক যুবতী অভিনয় করেছেন।
Advertisement
ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, প্রথমে এক যুবক মহিলার বাড়িতে গিয়ে একটি চিঠি দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই ইসলামপুর থানার নাম করে ভুয়ো ফোন করা হয়। পুলিসের পোশাক পরে এক প্রতারক মহিলাকে ভিডিও কল করে জানায় তাকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হচ্ছে। এতে সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিজ হয়ে যাবে এবং আর্থিক লেনদেন করতে পারবে না। তাই অন্য একটি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলা হয়। আর সেই ফাঁদে পা দিয়ে টাকা পাঠালেই প্রতারিত হতে হয় সেই ব্যক্তিকে। অথ্যচিত্রে আইসির ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে আইসি হীরক বিশ্বাসকে। তিনি বার্তা দেন, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কোনও আইনই নেই। সরকারি এজেন্সি ফোন করে কখনও ইনফর্মেশন চায় না। কোনও অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতেও বলে না। তড়িঘড়ি প্রতারকের চাপে পড়ে অ্যাকাউন্ট ডিটেলস জানাবেন না। টাকাও পাঠাবেন না। এই ধরনের প্রতারণার চেষ্টা হলে ১৯৩০ ফোন করুন। থানায় যোগাযোগ করুন। আইসি হীরক বিশ্বাস বলেন, এসপি সাহেবের নির্দেশেই সচেতনতামূলক এই ভিডিও করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা অ্যাক্টিভ, এমন যুবক যুবতীদের নিয়ে ভিডিও করা হয়েছে। পুলিসের আইটি সেলের সঙ্গেও এরা যুক্ত। এসপি জবি থমাস বলেন, বর্তমান সময়ে গোটা বিশ্বে সাইবার ক্রাইম বেড়েছে। এর থেকে বাঁচার একটিই উপায়, নিজেকে সচেতন করা। ওটিপি, ব্যাঙ্ক ও আধার কার্ড সহ পার্সোনাল ডিটেলস শেয়ার করলে, সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট সচেতনভাবে ব্যবহার না করা হলে যে কেউ সাইবার প্রতারণার শিকার হতে পারেন। তাই আমরা বারবার সচেতনতার প্রচার চালাচ্ছি। ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে ইসলামপুরে প্রতারণা হয়নি। তবে অন্যন্য এলাকায় হয়েছে। তাই সচেতন করার জন্য এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।



