সংবাদদাতা, কাঁথি: ডিজে বক্সের কুপ্রভাব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার প্রচার করছিলেন এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। সেই ‘অপরাধ’-এ ফোনে হুমকি দেওয়া হল তাঁকে। কাঁথির নয়াপুট সুধীরকুমার হাইস্কুলের ওই প্রধান শিক্ষকের নাম বসন্তকুমার ঘোড়াই। জুনপুট কোস্টাল থানায় অভিযোগ দায়ের করে পুলিসকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
Advertisement
শনিবার রাতে একটি নম্বর থেকে বসন্তবাবু কাছে হুমকি ফোন আসে। বসন্তবাবুর দাবি, ডিজে সাউন্ডবক্সের প্রতিবাদে কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন, এই প্রশ্ন তুলে তাঁকে কটূক্তি করা হয়। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়। বসন্তবাবু তাতে প্রথমে আমল না দিলেও লাগাতার ফোন আসতে থাকে। তারপরই তিনি পুলিসের দ্বারস্থ হন। উল্লেখ্য, উৎসবের মরশুমে কাঁথি মহকুমার প্রায় প্রতিটি এলাকায় ডিজে সাউন্ডবক্সের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। কোথাও কোথাও পুলিস-প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও বেশিরভাগ জায়গায় ডিজে সাউন্ডবক্সের দৌরাত্ম্য চলছেই। ডিজে সাউন্ডবক্স নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনগণকে সচেতন করার কাজে নেমেছেন বসন্তবাবু। নিজের মতো করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাছাড়া তাঁর স্কুল সন্নিহিত এলাকায় ডিজেপ্রেমীদের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছে তাঁর। এমনকী ডিজে সাউন্ডবক্স নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে একটি গ্রামে পুজো উদ্বোধনের আমন্ত্রণও প্রত্যাখান করেছেন তিনি। তার মধ্যেই এই ঘটনা। বসন্তবাবু বলেন, ডিজে সাউন্ডবক্সের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলাম বলেই আমাকে হুমকির শিকার হতে হল। ফোন নম্বরটি দিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। বিভিন্ন জায়গায় ডিজে সাউন্ডবক্সের আকর্ষণে কিশোর বয়সি ছেলেরা স্কুলেই আসছে না। এতে তাদের পড়াশোনার ক্ষতি তো হচ্ছেই, শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলে শব্দদূষণের শিকার হচ্ছেন। তিনি এও বলেন, পুলিস-প্রশাসন শুধু ডিজে সাউন্ডবক্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এমন হতে পারে না। মানুষ যদি সচেতন হয়, তাহলে ডিজে সাউন্ডবক্সের প্রভাব ও দৌরাত্ম্য এমনিই কমে যাবে। তবে যতই হুমকি আসুক না কেন, আমার প্রতিবাদ জারি থাকবে।



