বাটুমি: তুল্যমূল্য লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন দিব্যা দেশমুখ। মহিলাদের দাবা বিশ্বকাপের খেতাবি লড়াইয়ে কনেরু হাম্পিকে হারিয়ে দখল করলেন বিশ্বসেরার মুকুট। গড়লেন ইতিহাস। সেই সঙ্গে অর্জন করলেন গ্র্যান্ড মাস্টারের মর্যাদাও।
বাটুমি: তুল্যমূল্য লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন দিব্যা দেশমুখ। মহিলাদের দাবা বিশ্বকাপের খেতাবি লড়াইয়ে কনেরু হাম্পিকে হারিয়ে দখল করলেন বিশ্বসেরার মুকুট। গড়লেন ইতিহাস। সেই সঙ্গে অর্জন করলেন গ্র্যান্ড মাস্টারের মর্যাদাও।
অতীতে কখনও বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠেননি ভারতের কোনও মহিলা দাবাড়ু। অথচ এবার হাম্পি-দিব্যার দাপটে নিশ্চিত হয় অল ইন্ডিয়ান ফাইনাল। খেতাবি লড়াইয়ে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে ছিলেন ৩৮ বছরের হাম্পি। কিন্তু প্রতিভার ঝলকে দেশের এক নম্বরকে কিস্তিমাত করলেন ১৯ বছরের দিব্যা। সোমবার টাই-ব্রেকারে তিনি জিতলেন ২.৫-১.৫ পয়েন্টে। দুটো ক্লাসিক্যাল গেম ড্র হওয়ায় খেলা গড়িয়েছিল টাই-ব্রেকারে। সেখানে প্রথম র্যাপিড গেমে সাদা ঘুঁটি নিয়ে খেলেও ড্রয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় পঞ্চদশ বাছাই দিব্যাকে। তবে দ্বিতীয় র্যাপিড গেমে কালো ঘুঁটি নিয়ে খেললেও জয়ের জন্য মরিয়া ছিলেন তিনি। দিব্যার দ্রুত ও নির্ভুল চালে টাইম প্রেশারে পড়ে যান হাম্পি। আর তাতেই ভুল করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৪ চালের পর হার মেনে নেন চতুর্থ বাছাই হাম্পি।
জর্জিয়ার বাটুমিতে গোটা টুর্নামেন্টে স্বপ্নের ফর্ম মেলে ধরেছেন দিব্যা। তারই মধুর সমাপ্তি ঘটালেন সোমবার। রোমাঞ্চকর ফাইনালে নিজের আদর্শ হাম্পিকে হারিয়ে আবেগতাড়িত নাগপুরের তরুণী। ম্যাচ শেষে তাঁর চোখে জল। কোনওক্রমে বললেন, ‘আনন্দ প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমিই বিশ্বসেরা, যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না! ঘোর কাটতে কয়েকদিন সময় লাগবে। তখন হয়তো বুঝতে পারব, আমি ঠিক কী করেছি।’ হাম্পিও প্রশংসায় ভরিয়েছেন তাঁর অর্ধেক বয়সি প্রতিদ্বন্দ্বীকে। তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য খেলেছে দিব্যা। নিঃসন্দেহে যোগ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।’ কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দও মুগ্ধ দিব্যার চমকপ্রদ উত্থানে। ভিশির কথায়, ‘বিশ্বকাপ জেতার জন্য দিব্যাকে অভিনন্দন। অসামান্য প্রতিভা। আমার বিশ্বাস, আরও অনেক সাফল্য ওর জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে।’ নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।
দিব্যার বাবা-মা উভয়েই চিকিৎসক। তবে তাঁরা বরাবর চেয়ে এসেছেন মেয়ে খেলার জগতেই প্রতিষ্ঠা পাক। দিব্যা শুধু তাঁদের ইচ্ছাই পূর্ণ করেননি, পৌঁছে গিয়েছেন দাবা বিশ্বের এভারেস্টে। ২০২১ সালে মহিলাদের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সাফল্যের দৌড় শুরু। এরপর তাঁর ট্রফির ক্যাবিনেটে জমা হয়েছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সোনা ও তিনটি দাবা ওলিম্পিয়াডের পদক। অগ্রগতির ধারা বজায় রেখে গত বছরের জুনে নিশ্চিত করেছিলেন জুনিয়র বিশ্বসেরার তকমা। এক বছরের মাথায় তাঁর হাতে হাতে শোভা পাচ্ছে মহিলাদের বিশ্বকাপ! বাটুমিতে রূপকথাকেই যেন চেকমেট করলেন দিব্যা!