Bartaman Logo
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

দিব্যার ব্যাগে থাকে বইও

বাবা-মা দু’জনেই চিকিৎসক। নাগপুরের বনেদি পরিবারে পরম স্নেহ-আদরে বড় হয়েও কখনও আহ্লাদে ভেসে যাননি দিব্যা দেশমুখ। ছোট থেকেই ভীষণ শৃঙ্খলাপরায়ণ। যেমন শান্ত-ধীরস্থির, তেমনই ঠান্ডা মাথা।

দিব্যার ব্যাগে থাকে বইও
  • ১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাবা-মা দু’জনেই চিকিৎসক। নাগপুরের বনেদি পরিবারে পরম স্নেহ-আদরে বড় হয়েও কখনও আহ্লাদে ভেসে যাননি দিব্যা দেশমুখ। ছোট থেকেই ভীষণ শৃঙ্খলাপরায়ণ। যেমন শান্ত-ধীরস্থির, তেমনই ঠান্ডা মাথা। মেয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ‘ডায়াগনসিস’ করে মোক্ষম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন চিকিৎসক দম্পতি। মাত্র চার বছর বয়সে দিব্যাকে ভর্তি করে দেন স্থানীয় দাবা অ্যাকাডেমিতে। পাশাপাশি, ভবন’স ভগবানদাস পুরোহিত বিদ্যামন্দিরে চলতে থাকে পড়াশুনা। স্কুলের ছাত্রী হিসেবে যতটা মেধাবী, ততটাই চৌখস দাবার বোর্ডে। দ্বাদশ শ্রেণিতে দুরন্ত রেজাল্ট করার পর চিন্তায় পড়লেন অভিভাবকরা। এবার হয় উচ্চশিক্ষা, না হয় দাবা—বেছে নিতে হবে কোনও একটিকে! সমাধান বাতলে দিব্যা সেদিন জানিয়ে দিয়েছিলেন, প্রিয় দু’টি জিনিসের কোনওটাকেই ছাড়তে চান না তিনি। সেই মতো খেলার পাশাপাশি ব্রিজ কোর্সে চলছে স্পোর্টস সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা। টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার সময় দিব্যার সঙ্গে থাকে ব্যাগ ভর্তি বই। খেলার ফাঁকে হোটেলে বেশিরভার সময়টাই ডুবে থাকেন পড়ার মধ্যে। প্রতিভাবানরা যে এরকমই হন! সবকিছু সামলেও ১৯ বছরের দিব্যা পৌঁছে গিয়েছেন দাবার দুনিয়ার শীর্ষে। ভারতের প্রথম মহিলা দাবাড়ু হিসেবে নিশ্চিত করেছেন বিশ্বসেরার মুকুট। জর্জিয়ার বাটুমিতে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে স্বদেশের কোনেরু হাম্পিকে হারিয়ে জিতেছেন মহার্ঘ সেই খেতাব। টাই-ব্রেকারে গড়ানো ফাইনালে তুল্যমূল্য লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসেন তিনি। সেই সঙ্গে অর্জন করেন গ্র্যান্ড মাস্টারের মর্যাদাও। অথচ খেতাবি লড়াইয়ে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে ছিলেন ৩৮ বছরের হাম্পি। কিন্তু প্রতিভার ঝলকে দেশের এক নম্বরকে কিস্তিমাত করেন ১৯ বছরের দিব্যা। বিশ্বনাথন আনন্দের হাত ধরে এদেশে যে দাবা অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, তা এখন সোনালি যুগে পরিণত।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ