নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: থিম সংস্কৃতির বহুল প্রচারের প্রথম দিকে থিম মূলত ব্যবহার হতো মণ্ডপ ও প্রতিমাসজ্জায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আলোকসজ্জাতেও থিমের ব্যবহার প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। আর কালীপুজো একঅর্থে আলোর উৎসব। ফলে, মণ্ডপ ও প্রতিমার সঙ্গে আলোকসজ্জাতেও চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে কালীপুজোর নগরী পাণ্ডুয়াতে। কোথাও মূর্ত কোথাও অমূর্ত, নানা থিমের আলোকসজ্জা দেখা যাবে গ্রামীণ পাণ্ডুয়া থেকে সদর পাণ্ডুয়ার অধিকাংশ পুজোতে। আর মণ্ডপ ও প্রতিমাসজ্জায় থিম? সে তো থাকছেই। হরেক নাম, হরেক আকার, আয়তনের চেহারার থিমের মেলা বসতে চলেছে পাণ্ডুয়াজুড়ে। বিবিধের পসরা থাকলেও সুর কিন্তু একটাই, চমক তৈরি।
বাঁকুড়ার মাটির ঘোড়া মৃৎশিল্পের নমুনা বা শিল্পগুণের কারণে খ্যাত। সেই ঘোড়াকে আশ্রয় করে নতুন ধরনের আদল এবং থিম তৈরি করা হচ্ছে। তবে মাটি নয়, ব্যবহার হচ্ছে হাল্কা ধরনের কাঠ। পাণ্ডুয়ার মধ্যমপাড়া ব্যবসায়ী সমিতি ও তরুণ সংঘের এবারের থিম, বিবিধ বর্ণ। রঙের বর্ণময় আখ্যান তৈরির মূলে আছে ওই ঘোড়া ও কাঠশিল্প। মণ্ডপের বাইরের অংশে একগুচ্ছ ঘোড়ার সমাবেশ, নির্দিষ্ট কোণ করে রাখা কাঠের সজ্জায় অভূতপূর্ব এক মণ্ডপ তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সেই মণ্ডপের অন্দর ও বাহিরসজ্জায় থাকবে রঙিন সুতো ও কাপড়ের কাজ। মূলত নানা পৌরাণিক কাহিনির আদলকে অন্দরসজ্জায় কাঠ ও সুতোর বুনোটে হাজির করা হবে। মণ্ডপে মাটির কালীপ্রতিমা সাবেক, সনাতন সাজে থাকবে। রংই যেখানে থিম, সেখানে আলোকসজ্জাতেও রঙের বাহার বাদ যাচ্ছে না। থিমের আলোকসজ্জার নাম গুলদস্তা বা গুলবাগিচা। আলো দিয়ে মনোরম ফুলের বাহার, ফুলের বাগান তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। পুজো উদ্যোক্তা মুকুলেশ ঘোষ বলেন, সর্বত্র রঙের বাহার নিয়েই আমাদের এবারের থিম ‘বিবিধ বর্ণ’। মণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জায় পরিচিত আদলের অনবদ্য ভিন্ন গড়ন হাজির করা হচ্ছে।
রঙের রাজকীয় বৈভব থেকে বেরিয়ে নীরদগড় সবুজ সংঘের পুজোতে গেলে দেখা যাবে নবাবী প্রাচুর্য। মুঘল আমলের নবাবী প্যালেসের আদলে তৈরি হচ্ছে সেখানকার মণ্ডপ। এই পুজোর এবার ৭৫ তম বর্ষ। ফলে, বৈভবের বাহুল্য সর্বত্র নজর কাড়বে। প্রায় ১২০ ফুট উচ্চতা ও ৮০ ফুট চওড়া মণ্ডপ তৈরি হবে প্লাইউডের সঙ্গে নানা যান্ত্রিক কলাকৌশলে। অন্দর ও বাহিরসজ্জায় রাজকীয় বৈভবের ছটা আনতে বিশেষ আয়োজন থাকছে। আর থাকছে আলোর নিপুণ ব্যবহার। প্রতিমা এখানেও সনাতন। দেবী রুদ্রচণ্ডী প্রচণ্ডা সাজে হাজির থাকবেন। তবে আলোকসজ্জাতেও থাকছে থিম। পুজো উদ্যোক্তা সানু চক্রবর্তী বলেন, বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য আমাদের আলোকসজ্জার থিম। সবমিলিয়ে ৭৫ বছরের পুজোকে চিত্তাকর্ষক করার যাবতীয় প্রয়াস করা হচ্ছে।
প্রকৃতি মনোরম। ফলে, মণ্ডপ থেকে আলোসজ্জার কাজে গতি এসেছে। কালীপুজোর নগরী আলোকময় বৈভবের প্রদর্শনীতে হাজির হতে একটু একটু করে তৈরি হচ্ছে।