মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম ছোটখেলনা। সেখানেই ছবির মতো সাজানো স্কুল ছোটখেলনা সুরেন্দ্র স্মৃতি বিদ্যামন্দির (উমা)। বিদ্যালয়ের পরিবেশ যেমন সুন্দর, ঠিক তেমনই শৃঙ্খলা ও অনুশাসনের পরিমণ্ডলও প্রশংসনীয়। আর সেই স্কুলেই বুধবার থেকে চালু হয়ে গেল জেলার প্রথম বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতি। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রী, সকলকেই এবার থেকে ‘বায়োমেট্রিক’ পদ্ধতিতে উপস্থিতি জানাতে হবে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বুধবার স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে এই বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতির উদ্বোধন হয়। সেইসঙ্গেই একটি অত্যাধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুমেরও উদ্বোধন হয়। এছাড়াও, পড়ুয়াদের জন্য ম্যাথ ল্যাব, শুশ্রুষা কেন্দ্র (হাসপাতাল) ও সংগ্রহশালারও উদ্বোধন হয়। উন্মোচিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ, বিআর আম্বেদকর এবং ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের পূর্ণাবয়ব মূর্তি। সবং বিধানসভার অধীন পিংলা থানার এই ছোটখেলনা সুরেন্দ্র স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের পড়ুয়া সংখ্যাও অনেক। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় দু’হাজার ছাত্রছাত্রী সরকার পোষিত এই স্কুলে পড়াশোনা করে। শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ৩৮। সারা বছর ধরেই এই স্কুলের পড়ুয়ারা নানা সহপাঠক্রমিক কাজে অংশ নেয় বলে জানালেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পবিত্রকুমার গৌড়ী। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ থেকে স্বাস্থ্য শিবির, নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করি আমরা। পড়ুয়াদের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার স্বার্থেই স্মার্ট ক্লাসরুম ও ম্যাথ ল্যাবরেটরির উদ্বোধন করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই সরকারি নির্দেশিকা আসার আগেই আমরা বায়োমেট্রিক হাজিরাও চালু করছি। এদিন বিদ্যালয়ের বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উপলক্ষে বসেছিল ‘চাঁদের হাট’। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্ডা, সবংয়ের বিধায়ক অমল পন্ডা, রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী আত্মনাথনন্দ সহ অন্যান্যরা। রাজ্যের মন্ত্রী অশোক দিণ্ডা পড়ুয়াদের সুনাগরিক হয়ে ওঠার পরামর্শ দেন। বিধায়ক অমল পণ্ডা বলেন, তোমরা মানুষের মতো মানুষ হও। নিজেদের পরিবার ও এই সমাজকে গর্বিত কর।-নিজস্ব চিত্র



