Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডোমিসাইল সার্টিফিকেট যাচাই করবেন জেলাশাসকরাই, বিএলও অ্যাপে যুক্ত হল নতুন অপশন

এসআইআরের শুনানিতে প্রমাণপত্র হিসেবে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন বহু ভোটার।

ডোমিসাইল সার্টিফিকেট যাচাই করবেন জেলাশাসকরাই, বিএলও অ্যাপে যুক্ত হল নতুন অপশন
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআরের শুনানিতে প্রমাণপত্র হিসেবে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন বহু ভোটার। সেসব সার্টিফিকেট বৈধ কি না, তা নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক তথা ডিইও। কমিশন সূত্রে এমনটাই খবর। 
২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যেসব ভোটারের নিজের বা‌ কোনও আত্মীয়ের নাম ছিল না, তাঁরা ‘নো ম্যাপ’ ভোটার হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন। প্রথম পর্যায়ে তাঁদেরই শুনানির জন্য ডেকে পাঠিয়েছিল কমিশন। বলা হয়েছিল, নিজেকে ভারতীয় ভোটার প্রমাণ করার জন্য ১৩টি নির্ধারিত নথির যে কোনও একটি জমা দিতে হবে। ১৩টি নথির মধ্যে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের জারি করা স্থায়ী ঠিকানা বা বাসস্থান সংক্রান্ত শংসাপত্রকে মান্যতা দিয়েছে কমিশন। যে কারণে বহু ভোটার শুনানিতে গিয়ে অন্যান্য নথির পাশাপাশি জমা দিয়েছেন ডোমিসাইল সার্টিফিকেট। এই সার্টিফিকেট মান্যতা পাবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছিল। এই সার্টিফিকেট কোন আধিকারিক স্তরে ইস্যু করা হয়, তা জানতে চেয়ে রাজ্যকে চিঠি লিখেছিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। সেই চিঠির জবাবে রাজ্য জানিয়েছে, ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষমতা দেওয়া ছিল জেলাশাসকদের হাতে।

Advertisement


১৯৯৯ সালের পর থেকে এই সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষমতা দেওয়া হয় এডিএম অর্থাৎ অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং মহকুমা শাসক বা এসডিওদের। ঘটনাচক্রে এসডিওরাই এসআইআর পর্বে ইআরও’র দায়িত্ব পালন করছেন। রাজ্যের তরফে এই চিঠি পাওয়ার পরই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা জানতে চেয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল সিইও অফিস। সূত্রের খবর, সেই চিঠির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের বৈধতা যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক বা ডিইওরা। সূত্রের খবর, বর্তমানে ভোটারদের তরফে জমা পড়া এই সার্টিফিকেট যাচাইয়ের কাজ চলছে। 


এদিকে, ‘নো ম্যাপ’ ভোটারদের পর এবার সন্দেহজনক ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। এর মধ্যেই শনিবার বিএলও অ্যাপে নতুন অপশন যুক্ত করা হয়েছে। শুনানির নোটিস দেওয়ার সময় এবার বিএলওদের লাইভ ফটো আপলোড করতে হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে এমনই নির্দেশ এসেছে অ্যাপে। আগে নিয়ম ছিল, যখন বিএলওরা ভোটারের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে শুনানির নোটিস দেবেন, তখন সেই ভোটারের কাছ থেকে একটি রিসিভড কপি নিয়ে সেটা বিএলও অ্যাপে আপলোড করবেন। এখন নতুন নিয়মে বিএলও অ্যাপের মধ্যেই লাইভ ফটো তুলে আপলোড করার অপশন যুক্ত করা হয়েছে। বিএলওরা যখন ভোটারদের বাড়িতে নোটিস দিতে যাবেন, তখনই তাঁদের একটি লাইভ ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করতে হবে। এই অপশন যুক্ত করার মাধ্যমে কমিশন নিশ্চিত হতে চাইছে, যাঁকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে, সেই ভোটার কিংবা তার পরিবারের হাতে নোটিসটি পৌঁছেছে কি না। ফলে পরবর্তীকালে কোনও ভোটার বলতে পারবেন না যে তিনি বিএলওর কাছ থেকে শুনানির নোটিস পাননি। আগামী সপ্তাহ থেকেই সন্দেহভাজন ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে বলে জানা যাচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ