নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বুধবার বর্ধমান-১ ব্লকের সরাইটিকর পঞ্চায়েত এলাকায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ দেখতে যান জেলাশাসক। এই ব্লকে টাকা পাওয়ার পরও অনেক উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি। এদিন তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন জেলাশাসক আয়েশা রানি এ। ব্লকের আধিকারিকদের বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় টাকা পাওয়ার পরও ১৪২২জন বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি। তাঁদের সঙ্গে আগেও যোগাযোগ করেছিলেন ব্লকের আধিকারিকরা। উপভোক্তারা কিছুদিন সময় চেয়েছেন। তারপরই তাঁরা বাড়ি তৈরি শুরু করবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও নির্মাণ কাজ শুরু করেননি। জেলাশাসক বলেন, টাকা পাওয়ার পরও বাড়ি তৈরি না করলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপভোক্তাদের সবরকম সহযোগিতা করা হয়েছে। অধিকাংশ উপভোক্তাই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন। কয়েকজন টাকা পাওয়ার পরও এখনও কাজ করছেন না। তাঁদের কী অসুবিধা রয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অনেকের বাড়ি তৈরি করার জন্য জমি ছিল না। তাঁদের পাট্টা দেওয়া হয়েছে। সেসব উপভোক্তা বাড়ি তৈরি করা শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু কিছুজন বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বাড়ি তৈরি করছেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম কিস্তির টাকা যেসব উপভোক্তা খরচ করেছেন তাঁরা পরের ধাপে টাকা পাবেন। কিন্তু যাঁরা কাজ শুরু করেননি তাঁরা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন না। এই প্রকল্পের টাকা ঠিকমতো খরচ হচ্ছে কিনা তা জানতে ব্লকের আধিকারিকরা গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। বাড়ি তৈরির কাজ কতটা এগিয়েছে সেই ছবি তাঁরা নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করছেন। এক আধিকারিক বলেন, নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কাজ শুরু না করলে টাকা ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এই প্রকল্পের টাকা অন্য খাতে খরচ করা যাবে না। তা উপভোক্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে বা যারা নিয়ম মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
১৪২২ জন উপভোক্তাকে আবারও একবার সতর্ক করা হবে। তাঁদের কোনও অসুবিধা থাকলে তা সমাধান করার চেষ্টা হবে। উপভোক্তারা নিজেরাই টাকা খরচ করতে পারবেন। কোনও সিন্ডিকেট জোর করে ইমারতি সামগ্রী দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আগেই প্রশাসন হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।-নিজস্ব চিত্র