Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্রিটিশ স্থাপত্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেই হাওড়ার পুরনো গির্জা ভবনে নয়া সাজে সাজছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর

ব্রিটিশ আমলের প্রেসবিটেরিয়ান চার্চ। পরবর্তীকালে সেখানে চালু হয়েছিল হাওড়া হাসপাতালের মেটারনিটি ওয়ার্ড। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পর জায়গাটি হয়ে ওঠে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের মূল ভবন।

ব্রিটিশ স্থাপত্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেই হাওড়ার পুরনো গির্জা ভবনে নয়া সাজে সাজছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ব্রিটিশ আমলের প্রেসবিটেরিয়ান চার্চ। পরবর্তীকালে সেখানে চালু হয়েছিল হাওড়া হাসপাতালের মেটারনিটি ওয়ার্ড। স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পর জায়গাটি হয়ে ওঠে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের মূল ভবন। কিন্তু গত ২৫ বছর ধরে ভবনটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দিনে দিনে তা আরও খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে। ভিতরে আলোর অভাব, ছাদ চুঁইয়ে বৃষ্টির জল পড়া সহ নানা সমস্যাকে সঙ্গী করেই এতদিন স্বাস্থ্যদপ্তরে কাজ করছিলেন আধিকারিক-কর্মীরা। তবে এবার হাল ফিরতে চলেছে স্বাস্থ্যদপ্তরের। সেজে উঠবে নব কলেবরে। হেরিটেজ স্থাপত্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেই জরাজীর্ণ এই ভবন সংস্কারের কাজ চলছে জোরকদমে।

Advertisement

হাওড়া থানার উল্টোদিকে রয়েছে ব্রিটিশ যুগের পুরনো এই ভবনটি। এক সময় এটি ছিল প্রেসবিটেরিয়ান চার্চের অংশ। সেখানকার ট্রাস্টিদের উদ্যোগে এই চার্চেই উপাসনায় অংশ নিতেন হাওড়া শহরের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ। চার্চের নামেই রাস্তার নামকরণ। হাওড়ার অন্যতম বিখ্যাত ছিল এই চার্চ। ১৯৩৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এখানেই তৈরি হয় মেটারনিটি ওয়ার্ড। বাংলার তৎকালীন গভর্নর স্যর জন অ্যান্ডারসন নিজে সেই মেটারনিটি ওয়ার্ডের উদ্বোধন করেছিলেন। ওয়ার্ডটি চালু করা হয়েছিল মূলত রাজা পঞ্চম জর্জের স্মরণে। ভবনের বাইরে এখনও জ্বলজ্বল করছে সেই ফলক। বলা বাহুল্য, ব্রিটিশ যুগে হাওড়া শহরে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য পরিষেবার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল এই জায়গাটি। স্বাধীনতার পরেও দীর্ঘদিন এখানে চিকিৎসার বন্দোবস্ত ছিল। পরবর্তীকালে এক প্রকার পরিত্যক্ত হয়ে ওঠে এই ভবনটি। ১৯৮০ সাল থেকে এই ভবনে শুরু হয় জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কাজ। ভবনে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব, আলোর সমস্যা, স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, তার উপর গোটা বর্ষাকাল জুড়ে ছাদ থেকে জল পড়া— এমন নানা ভোগান্তি মাথায় নিয়েই এতদিন দপ্তরের যাবতীয় কাজকর্ম চালিয়েছেন আধিকারিক ও কর্মচারীরা। এদিকে, হেরিটেজ বিল্ডিং হওয়ায় সেটি ভেঙে নতুন করে সংস্কার করাও সম্ভব হচ্ছিল না। যাবতীয় জটিলতা কাটিয়ে এবার হেরিটেজ কাঠামোকে অপরিবর্তিত রেখেই অন্দরমহল জুড়ে নতুনভাবে সেজে উঠছে স্বাস্থ্যদপ্তর।
গত এপ্রিল মাস থেকে শুরু হয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর সংস্কারের কাজ। এজন্য খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা। আপাতত স্বাস্থ্যদপ্তরকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের বাংলোয়। জানা গিয়েছে, ডিসেম্বরে ফের পুরনো চার্চ বিল্ডিংয়ে উঠে আসবে স্বাস্থ্যদপ্তর। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কিশলয় দত্ত বলেন, ‘স্বাস্থ্য দপ্তরের সংস্কার অত্যন্ত জরুরি ছিল। প্রতিদিন গোটা জেলা থেকে বহু মানুষ এখানে আসেন। তাঁদের বসার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। আধিকারিকদেরও কাজ সামলাতে সমস্যা হচ্ছিল।’ স্বাস্থ্য দপ্তরের এই অফিসে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ছাড়াও, ডেপুটি সিএমওএইচ, আয়ুষ অফিসারদের চেম্বার রয়েছে। পাশাপাশি এখান থেকেই গোটা জেলার হেলথ প্রোগ্রামিং ও এস্টাবলিশমেন্টের কাজ চলে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ