নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ডেঙ্গু মোকাবিলায় বছরের শুরু থেকেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বীরভূম জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। পথে নেমেছেন ভিসিটি(ভেক্টর কন্ট্রোল টিম) ও ভিএসটি(ভেক্টর সার্ভিলেন্স টিম) সদস্যরাও। ডেঙ্গু মোকাবিলায় এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে তাঁরা নজর রাখছেন। বলা বাহুল্য, এই কাজের গুরুদায়িত্ব তাঁদের কাঁধেই ন্যস্ত রয়েছে। যদিও ডেঙ্গু মোকাবিলায় তাঁদের সামগ্রিক কাজকে আরও উন্নত করা প্রয়োজন বলে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকদের একাংশ মনে করছে। এই পরিস্থিতিতে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর দুই গুরুত্বপূর্ণ টিমের সদস্যদের কাজের মানোন্নয়নে এবার প্রশিক্ষণের উপর জোর দিতে শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, আগামী জুন মাসে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে জেলাজুড়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি জেলার ১৯টি ব্লকে ইতিমধ্যেই একটি প্রশিক্ষণ শিবির করা হয়েছিল। ওই শিবিরে ডেঙ্গু মোকাবিলার পাশাপাশি পতঙ্গবাহিত রোগ নিয়েও সচেতনতার পাঠ দেওয়া হয়। জেলার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক-২ মৃণালকান্তি ঘোষ বলেন, ডেঙ্গু সহ পতঙ্গবাহিত রোগ মোকাবিলায় ভিসিটি ও ভিএসটির সদস্যদের কাজের মানোন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। তার জন্য প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৮জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে সকলেই সুস্থ রয়েছেন। বর্তমান সময়ে নতুন করে কোনও অ্যাক্টিভ ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর নেই। স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা হলেও স্বস্তিতে স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা। ডেঙ্গু সহ পতঙ্গবাহিত রোগ মোকাবিলায় জেলাজুড়ে প্রায় এক হাজার ভিসিটি ও ভিএসটি সদস্য কাজ করছেন। ভিএসটি সদস্যরা মূলত এলাকা পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরি করেন। সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই ভিসিটির সদস্যরা সাফাইয়ের কাজ করে থাকেন। স্বাভাবিকভাবেই ডেঙ্গু মোকাবিলায় এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মূল দায়িত্ব তাঁদের কাঁধেই রয়েছে। তাঁদের বড় একটি অংশ যথেষ্ট দায়িত্বশীলভাবেই কাজ সামলে চলেছেন। যদিও আধিকারিকদের একাংশের কথায়, তাঁদের কাজের মানোন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। সেক্ষেত্রে, জেলাজুড়ে ব্লক ভিত্তিক প্রশিক্ষণের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় কর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি টেস্টের উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বীরভূম জেলার সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল এবং বোলপুরে ইউপিএসসি-১ ও ২, সিউড়িতে ইউপিএসসি-১ সহ সাঁইথিয়ায় ডেঙ্গুর টেস্ট করা হচ্ছে। এছাড়াও, প্রত্যন্ত এলাকায় যাঁদের শরীরে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাঁদের সিরাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সেই সিরাম কাছের টেস্টিং সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এই পদ্ধতিতে বিগত দিনের তুলনায় টেস্টিং অনেক বেশি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।