


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা অগ্রাহ্য করে সরাসরি রাজ্যের এক্তিয়ারে ঢুকে পড়ছে মোদি সরকার। নবান্নকে এড়িয়ে সরাসরি জেলায় নিযুক্ত কৃষিদপ্তরের আধিকারিকদের বলা হচ্ছে কেন্দ্রকে রিপোর্ট দিতে। আরও অভিযোগ, রাজ্যের বিভাগীয় মন্ত্রী এবং পদস্থ কর্তাদের এড়িয়ে কেন্দ্রের তৈরি সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সরাসরি জেলার আধিকারিকদের যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, রাজ্যের কাজে কেন্দ্রের সরাসরি হস্তক্ষেপে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ নবান্ন। এই বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এমন ঘটনা দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আঘাত করে। কৃষিক্ষেত্রে সমস্ত প্রকল্পেই প্রথম সারির রাজ্যগুলির অন্যতম পশ্চিমবঙ্গ। ফলে কীসের উপর নজরদারি চালাতে চাইছে কেন্দ্র? যাই হোক, যেকোনও নিয়মমাফিক কাজ মানা যায় কিন্তু সরাসরি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া যায় না। সম্পূর্ণ রাজ্যের কোষাগার থেকে কৃষকবন্ধু, বাংলা শস্যবিমা এবং কৃষকদের বার্ধক্য ভাতা প্রকল্প চলে। প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনাও রাজ্যে কার্যকর হয়নি। প্রশাসন সূত্রে খবর, ফলে কৃষিক্ষেত্রে রাজ্যের নিজস্ব ব্যয় কেন্দ্রের তুলনায় অনেকগুণ বেশি। এমনকী, রাজ্যের কৃষকবন্ধুর তুলনায় অর্ধেক কৃষক কেন্দ্রের পিএম কিষানের সুবিধা পান। আবার ভাগচাষিরা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কোনও সুবিধা পান না। শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনার মতো প্রকল্পে যৎসামান্য অর্থ বরাদ্দ হয় রাজ্যের জন্য। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের সরাসরি নজরদারির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে রাজ্য প্রশাসনও?
প্রসঙ্গত, বছরচারেক আগে নবান্নকে এড়িয়ে সরাসরি জেলাশাসকদের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিতে বলা হয়। তা নিয়ে সৃষ্টি হয় জোর বিতর্ক। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে চড়িয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কৃষি আধিকারিকদের সরাসরি কেন্দ্রকে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে বলা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। কোন এলাকায় কোন প্রকল্পের অগ্রগতি কেমন হয়েছে, তা কেন্দ্রকে সরাসরি জানাতেই তৈরি করা হবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। জানানো হয়েছে নয়াদিল্লির চিঠিতে। ফলে দপ্তরের মাধ্যমে রিপোর্ট দেওয়ার পুরনো পদ্ধতি কি বিলুপ্ত হয়ে যাবে? ইতিমধ্যে এই প্রশ্নই তুলতে শুরু করেছে নবান্ন।