নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় মাত্র ৫৬শতাংশ কাজ করতে পেরেছে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ। উন্নয়নমূলক কাজের নিরিখে পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে থাকায় খোদ পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে জেলা পরিষদের কর্তাদের। আগামীবছর রাজ্যে বিধানসভা ভোট। সেকথা মাথায় রেখে জেলায় রিভিউ বৈঠকে গ্রামের উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী।
কিন্তু, জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের পারফরম্যান্স কিছুটা হলেও ভাবাচ্ছে পঞ্চায়েত দপ্তরকে। এই পরিস্থিতিতে খামতি মিটিয়ে উন্নয়নে গতি আনতে তৎপর জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ। প্রকল্প নির্বাচনে যাতে সময় নষ্ট না হয়, সেজন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ‘স্কিম ব্যাঙ্ক’ তৈরি শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে সময়ে কাজ শেষের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। জেলা পরিষদে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, একটি এজেন্সি একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ ফেলে রেখেছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার নানা অজুহাতে কাজ শুরু করতে দেরি করেছে তারা। এরই জেরে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে জেলা পরিষদকে। সংশ্লিষ্ট ঠিকা সংস্থাকে শোকজ করেও লাভ হয়নি। সেকারণে এবার সময়ের কাজ শেষ করতে না পারলে বরাত পাওয়া এজেন্সিকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ মহুয়া গোপ।
রবিবার তিনি বলেন, এটা ঠিক যে, পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির তুলনায় পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় কাজের ক্ষেত্রে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। এর মূল কারণ, কিছু এজেন্সিকে বারবার বলার পরও তারা সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। কিছু ক্ষেত্রে আবার কাজ শুরু করতে নানা টালবাহানা করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকা সংস্থা। এজন্য একাধিক এজেন্সিকে শোকজ করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। সেকারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবার থেকে যে এজেন্সি সময়ে কাজ শেষ করতে পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওই সংস্থাকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করব আমরা। উন্নয়নের কাজে ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না।’
এই জেলায় পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরে ৭৪শতাংশ কাজ হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতি কাজ করেছে প্রায় ৮১ শতাংশ। সেখানে জেলা পরিষদ কাজ করতে পেরেছে ৫৬ শতাংশ। জেলা পরিষদ কেন এতটা পিছিয়ে, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায়বর্মন বলেন, প্রকল্প নির্বাচন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনেকটা সময় অপচয় হয়েছে। বেশ কিছু কাজের ক্ষেত্রে একাধিকবার রি-টেন্ডার করতে হওয়ায় সময় লেগেছে। তাঁর দাবি, এবার থেকে যাতে টাকা আসার সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্কঅর্ডার দিয়ে দেওয়া যায়, সেজন্য আগে থেকে প্রকল্প নির্বাচন, টেন্ডার প্রক্রিয়া সেরে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আমরা স্কিম ব্যাঙ্কও তৈরি করছি।
জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের টাকায় ধূপগুড়িতে সেতু, মেটেলিতে ডাকবাংলো সংস্কার, মডেল স্কুলগুলিতে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি, ওয়াটার এটিএম, কমিউনিটি টয়লেট, সোলার লাইট সহ একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।