Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দোকানঘর ভাড়া দিয়ে বিপাকে জেলা পরিষদ, মিলছে না ভাড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট বকেয়া প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা

দোকানঘর ভাড়া দিয়ে বিপাকে জেলা পরিষদ, মিলছে না ভাড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট বকেয়া প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: খরচ সামাল দিতে দোকান ঘর ভাড়া দিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। এতেই বিপদ বেড়েছে। দোকান ঘরগুলির ভাড়া বাবদ বকেয়া প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। অনেক চেষ্টা করেও সেই টাকা আদায় হচ্ছে না। জেলা পরিষদের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, একাধিকবার দোকান মালিকদের চিঠি দেওয়া হলেও সেভাবে সদুত্তর মিলছে না। এমনকী এলাকায় গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গিয়েছে, জেলা পরিষদের দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও, পরে সেই দোকানঘর বেআইনিভাবে মোটা টাকায় বিনিময়ে অন্য এক ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, দোকানে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও, অনেকেই ভাড়া দিচ্ছে না। বারংবার এনিয়ে বলে হলেও আমল দিচ্ছে না। প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সকলকে সঠিক সময়ে ভাড়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ কাজের দিক থেকে রাজ্যে অনেকটাই এগিয়ে। এই জেলা পরিষদে ৬০ জন সদস্য রয়েছেন। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ ছাড়াও জেলা পরিষদ নিজেদের ফান্ড থেকে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতনও জেলা পরিষদ দেয়। প্রতি মাসে জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ বিল, বেতন, গাড়ি ভাড়া সহ বিভিন্ন খাতে ১৭ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এই খরচ সামাল দিতে জেলা পরিষদ দোকান ঘর ভাড়া, ফেরি ঘাট লিজ, বিভিন্ন হল ভাড়া, পুকুর লিজ, গেস্ট হাউস ভাড়া দিয়ে উপার্জন করে। বছরে জেলা পরিষদের আয় হয় প্রায় চার কোটি টাকা। সেই টাকা সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিতেই খরচ হয়। বর্তমানে জেলা পরিষদের তরফে বড় মল তৈরির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। কিন্তু জেলা পরিষদের অভিযোগ, দোকান ঘর ভাড়া দেওয়াতেই সমস্যা বেড়েছে। দোকান ঘরের ভাড়া পাচ্ছে না জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর, বেলদা, শালবনী, ডেবরা এই চারটি ব্লকে জেলা পরিষদের দোকান ঘর রয়েছে। মেদিনীপুরে ১৭৯টি দোকান থেকে বকেয়া প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা, বেলদা ব্লকে ৩০টি দোকান থেকে বকেয়া প্রায় ৮ লক্ষ টাকা, শালবনী ব্লকে ১২টি দোকান থেকে বকেয়া ৪ লক্ষ টাকা ও ডেবরা ব্লকে ১৮টি দোকান থেকে বকেয়া প্রায় ১ লক্ষ টাকা। এক ব্যবসায়ী বলেন, কিছু দোকানদার সময়মতো টাকা দেয়। তবে করোনার সময় থেকে ব্যবসার পরিমাণ কমেছে। মূলত সেই সময় থেকেই বকেয়ার পরিমাণ বেড়েছে। মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা সুদীপ রায় বলেন, জেলা পরিষদের মার্কেট প্লেসগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু টাকা না পেলে জেলা পরিষদ কোথা থেকে করবে। দোকানগুলো থেকে খারাপ বিক্রি হয়না।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ