সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: কুশমণ্ডির সেই দুঃস্থ শিল্পী সঞ্জিতা সরকার পেলেন রাজ্য সরকারের পরিচয় পত্র। জেলা শিল্পদপ্তর সেলাই মেশিন দিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়াল।
সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: কুশমণ্ডির সেই দুঃস্থ শিল্পী সঞ্জিতা সরকার পেলেন রাজ্য সরকারের পরিচয় পত্র। জেলা শিল্পদপ্তর সেলাই মেশিন দিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়াল।
কুশমণ্ডির ঊষাহরণ মহিষবাথানের এই শিল্পীর খবর ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশিত হতেই তাঁর পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল প্রশাসন। আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও এই শিল্পী কটন ও পাটের সুতো দিয়ে দৃষ্টিনন্দন গৃহসজ্জার জিনিসপত্র তৈরি করেন। গত শনিবারই লন্ডন থেকে এক মহিলা সঞ্জিতার বাড়ি এসে তাঁর শিল্পকর্ম চাক্ষুষ করেন। কার্পেটেরও অর্ডার দেন। সঞ্জিতার হাতে বানানো একটি সাইড ব্যাগও কিনে নেন লন্ডননিবাসী ওই মহিলা।
অভিযোগ, সঞ্জিতা দীর্ঘদিন হস্তশিল্পের কাজ করলেও মেলেনি শিল্পী পরিচয় ও সরকারি সাহায্য। খবর প্রকাশের পরই জেলা শিল্পদপ্তর জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে তলব করে। মঙ্গলবার জেলা শিল্পদপ্তরে যান এই শিল্পী। জেলা শিল্পদপ্তর শীঘ্রই সঞ্জিতাকে শিল্পীর পরিচয়পত্র দিতে চলেছে। পাশাপাশি বৃহত্ পরিসরে কাজ করার জন্য শিল্পীকে আর্থিক অনুদানও দেওয়া হয়। যা দিয়ে শিল্পী তাঁর প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবেন। এদিন সঞ্জিতাকে আনন্দধারা প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা লোনেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। জেলা শিল্পদপ্তরের আধিকারিক স্বপন প্রামাণিক বলেন, কুশমণ্ডির হস্তশিল্পীকে আমাদের দপ্তরে ডেকেছিলাম।
শিল্পীকে সরকারিভাবে হস্তশিল্পীর পরিচয়পত্র তুলে দিতে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। খুব দ্রুত শিল্পী তাঁর পরিচয়পত্র পাবেন। পাশাপাশি টুল কিট কিনতে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। আমরা ভবিষৎ ক্রেডিট কার্ডের ব্যবস্থাও করে দিচ্ছি। জেলা আনন্দধারা প্রকল্পের প্রজেক্ট আধিকারিক সুব্রত মহন্ত বলেন, সঞ্জিতা স্বনির্ভর দলের একজন সদস্য। গ্রামে তিনি একটি স্বনির্ভর দলের সভানেত্রী হিসেবে দল পরিচালনা করেন। স্বনির্ভর দলের তরফে শিল্পীকে পার্সোনাল লোনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে। এই টাকা দিয়ে শিল্পী তাঁর ব্যবসা বাড়াতে পারবেন। জেলা শিল্পদপ্তর থেকে বেরিয়ে আসছেন সঞ্জিতা সরকার।