নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: গত ১ জুলাই থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ১২৫ দিনের নতুন কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘ভিবি জিরামজি’। বীরভূম জেলাতেও প্রকল্পটি চালু হলেও এর বাস্তবায়নে গতি অত্যন্ত ধীর। ১২৫ দিনের এই গ্রামীণ কাজকে দ্রুত ও সুসংহত করতে এবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিউড়িতে আয়োজিত হল বিশেষ ‘পঞ্চ সম্মেলন’। মঙ্গলবার সিউড়ির ডিআরডিসি হলে আয়োজিত ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের জেলা শাসক ধবল জৈন, দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ সাহা, প্রকল্পের নোডাল অফিসার শুভজিৎ জানা সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক। এ ছাড়াও বৈঠকে যোগ দেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, জয়েন্টবিডিও এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব সহ অন্যান্য পদাধিকারীরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, বীরভূমে মোট ১৬৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। জেলায় মোট ৬ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশি পরিবারের জবকার্ড রয়েছে এবং নিবন্ধিত শ্রমিকের সংখ্যা ১৩ লক্ষেরও বেশি। তবে প্রকল্প শুরু হওয়ার পর এতদিনে জেলাজুড়ে মাত্র দু’হাজারের কাছাকাছি শ্রমিককে কাজে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে! যা অত্যন্ত কম বলেই মনে করছেন কর্তারা। অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতে এখনও কাজের সূচনা পর্যন্ত করা যায়নি।
প্রশাসনের আধিকারিকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই প্রকল্পের ধীরগতির অন্যতম প্রধান কারণ পঞ্চায়েতগুলির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও প্রশাসনিক স্থবিরতা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল পরিচালিত অধিকাংশ পঞ্চায়েতেই চূড়ান্ত ডামাডোল চলছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও সদস্যরা হয় একে একে পদত্যাগ করছেন, না হয় নিয়মিত কার্যালয়ে আসছেন না। যেহেতু যেকোনো সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে গ্রাম প্রধানদের ভূমিকা অপরিসীম, তাই তাঁদের এই অনুপস্থিতি ও দল ত্যাগের হিড়িকে প্রশাসনিক কাজকর্ম একপ্রকার থমকে রয়েছে।
তবে পঞ্চায়েত ভোট না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে বিকল্প প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলে এই ১২৫ দিনের কাজ মসৃণ রাখা যায়, মঙ্গলবারের বৈঠকে সেই রূপরেখাই তৈরি করা হয়েছে। দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ সাহা বলেন, ‘পঞ্চায়েতগুলির অভ্যন্তরীণ অচলাবস্থার কারণে প্রায় অর্ধেকপঞ্চায়েতেই কাজ শুরু করা যায়নি। সেই সমস্যা মেটাতেই এই পঞ্চ সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরেও এই ধরনের কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। শীঘ্রই অচলাবস্থা কাটিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ‘ভিবি জিরামজি’ প্রকল্পের অধীনে মূলত বর্ষার জল সংরক্ষণ, কংক্রিটের চেক ড্যাম নির্মাণ, পুরনো পুকুর ও জলাশয় খনন এবং পুনরুজ্জীবনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের আশা, এই বৈঠকের পর প্রকল্পটির রূপায়ণে গতি আসবে।
পঞ্চ সম্মেলনের উদ্বোধন করছেন জেলাশাসক সহ অন্যান্যরা সিউড়ির ডিআরডিসি হলে। -নিজস্ব চিত্র