নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ হেল্পলাইন নম্বর শুধু অভিযোগ নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রেই সক্রিয় নয়, দ্রুত নিষ্পত্তিতেও কোমর বেঁধে কাজ চলছে। উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্প্রতি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে দায়ের হওয়া অভিযোগের ১০০ শতাংশই নিষ্পত্তি করে ফেলেছে। এতে সমস্যার সমাধান পেয়ে যেমন খুশি হয়েছেন সাধারণ অভিযোগকারীরা, তেমনই প্রয়োজনীয় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে পেরে স্বস্তি উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের অন্দরেও।
জেলা প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৯১ হাজার ৮৭৯ অভিযোগ গিয়েছে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’র হেল্পলাইনে। যার প্রত্যেকটি অভিযোগের নিষ্পত্তি করেছে প্রশাসন। আর এই কাজের নিরিখে রাজ্যের প্রথম তিনটি জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তর দিনাজপুর। জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা বলেন, মানুষ যেমন সরকারি পরিষেবা পাওয়া নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে অভিযোগ করেন, তেমনই রাস্তা, পানীয় জল, আলো, এমনকী রক্ত সঙ্কট, অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন না বলেও অভাব-অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। প্রশাসন অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত সেই সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়।
ডিএম জানান, সমস্ত অভিযোগ প্রশাসন দ্রুত মেটাতে বদ্ধ পরিকর। সেই মতো কাজ করে আমরা ১০০ শতাংশ অভিযোগের নিষ্পত্তি করেছি চলতি সপ্তাহে। জেলা থেকে অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৯১ হাজার ৮৭৯ টি। জেলাশাসকের কথায়, আগামী দিনেও অভিযোগ হলে সেগুলি দ্রুত মেটানো হবে।
মানুষ যাতে খুব সহজে পরিষেবা পান,সেজন্য রাজ্য সরকার দুয়ারে সরকার শিবির চালু করেছে। তেমনি এর বাইরেও কোনও অভাব অভিযোগ জানাতে এবং তা দ্রুত সমাধানের জন্য রাজ্য সরকার ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ হেল্পলাইন চালু করেছে। হেল্পলাইনে অভিযোগ নথিভুক্ত হতেই তা নিষ্পত্তিতে জোর দেন প্রশাসনের কর্তারা। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের এ ব্যাপারে নজর দিতে বলা হয়। যাতে মানুষ দ্রুত তার সমস্যার সমাধান উপলব্ধি করতে পারেন। তার জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে ফোন গেলে সেই অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছে আসে। যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের অভিযোগ নিরসন নিয়ে খুশি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলও। তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর দিনাজপুর জেলার সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হেল্পলাইনে মানুষ সমস্যার কথা জানালেই দলমত নির্বিশেষে তা নিরসনে প্রশাসন তৎপর থাকে। আমরাও দলীয়ভাবে এ ব্যাপারে প্রশাসনকে সহযোগিতা করি। জেলার পুরসভাগুলিও এই কাজ লাগাতার চালিয়ে যাচ্ছে। শেষপর্যন্ত মানুষ উপকৃত হচ্ছেন, এটাই আমাদের সরকারের পাওয়া।