নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মাল মহকুমার একাধিক পঞ্চায়েতের কাজে চরম অসন্তুষ্ট জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে যেমন ক্রান্তির চ্যাংমারি, চাপাডাঙার মতো পঞ্চায়েত রয়েছে, তেমনই রয়েছে বাগরাকোট, ওদলাবাড়ি, ডামডিমের মতো পঞ্চায়েত। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়িতে রিভিউ বৈঠকে এনিয়ে রীতিমতো কৈফিয়ত তলব করা হল ওইসব পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধানদের কাছে। জবাবদিহির হাত থেকে রেহাই পাননি সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়করা। উন্নয়নের কাজে পিছিয়ে থাকা পঞ্চায়েতগুলি যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেব্যাপারে বিডিওদের বিশেষ দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে ভালো পারফরম্যান্স করতে ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে জেলাশাসক শমা পারভীন বলেন, প্রতিটি প্রকল্প ধরে এদিনের বৈঠকে রিভিউ করা হয়েছে। মাল মহকুমায় চারটি পঞ্চায়েতের কাজে আমরা মোটেই খুশি নই। বিশেষ করে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ ঠিকভাবে করছে না তারা। পারফরম্যান্স ভালো করার জন্য তাদের ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মহিলাদের নিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্লকে টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, মাল মহকুমার কিছু পঞ্চায়েতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন হয়নি। টার্গেট পূরণে তাদের জোর দিতে বলা হয়েছে।
ভরা সভায় এদিন জেলা প্রশাসনের কর্তারা অভিযোগ করেন, মাল মহকুমার বহু পঞ্চায়েতে নামেই সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। কিন্তু আদতে সেগুলি ভালোভাবে চলছে না। পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য পৃথকীকরণ তো দূরের কথা, ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকছে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ। সেসব নিয়মিত সংগ্রহ করা হচ্ছে না। চা বাগান এলাকার পাশাপাশি ডুয়ার্সের ট্যুরিস্ট স্পটেও প্লাস্টিক পোড়াতে দেখা যাচ্ছে। এনিয়ে পদক্ষেপ না করলে মডেল ভিলেজের তকমা হারাতে হতে পারে বলে এদিন সতর্ক করে দেওয়া হয় প্রধান, উপপ্রধানদের।
জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানিয়ে দেন, আগামী নভেম্বর মাস থেকেই বিধানসভা ভোটের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন সরকারি কর্মীরা। ফলে আগস্টের মধ্যে বরাদ্দ কাজের অন্তত ৬০ শতাংশ শেষ করে ফেলতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ। উন্নয়নের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে পঞ্চায়েতগুলির ভূমিকায় এদিনের বৈঠকে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ত্রিপল ভাগ করার মতো করে কিছু পঞ্চায়েত বরাদ্দ টাকার ভাগ করতে চায়। এটা মোটেই কাম্য নয়। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই উন্নয়নের কাজ হওয়া উচিত।