Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি: দ্বিতীয় দিনেও কিছু জায়গায় বিশৃঙ্খলা, রিপোর্ট তলব কমিশনের

এসআইআর-এর ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির দ্বিতীয় দিনেও রাজ্যের নানা জায়গায় বিশৃঙ্খলার চিত্র সামনে এল। কোথাও রাজনৈতিক দলের বিএলএ’র বাড়িতে বসেই চলল ফর্ম বিলি।

ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি: দ্বিতীয় দিনেও কিছু  জায়গায় বিশৃঙ্খলা, রিপোর্ট তলব কমিশনের
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর-এর ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির দ্বিতীয় দিনেও রাজ্যের নানা জায়গায় বিশৃঙ্খলার চিত্র সামনে এল। কোথাও রাজনৈতিক দলের বিএলএ’র বাড়িতে বসেই চলল ফর্ম বিলি। কোথাও আবার ভোটারদের বাড়ি বাড়ি না গিয়ে চায়ের দোকান বা বাসস্ট্যান্ডকে বেছে নেওয়া হল ফর্ম বিলির আদর্শ জায়গা হিসেবে। দুই ব্যক্তির একই এপিক নম্বরকে কেন্দ্র করে অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ছেন স্বয়ং বিএলও—এমন ঘটনাও সামনে এসেছে। আগেভাগে নির্দেশিকা এবং প্রশিক্ষণ সত্ত্বেও কেন এই বিশৃঙ্খলা? সমস্যা কোথায়? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর চেয়েই বুধবার সংশ্লিষ্ট ইআরওদের থেকে রিপোর্ট তলব করল রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। তবে এরকম বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনার মধ্যেও এদিন রাত ৮টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ১ কোটি ১০ লক্ষ ফর্ম বিতরণ সম্ভব হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। এর মধ্যে মঙ্গলবারই বিতরণ হয়েছিল ৭০ লক্ষ ফর্ম। তবে বিশৃঙ্খলা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল। উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘রাজ্যে ৮০ হাজারের বেশি বুথ। তাতে এরকম দু-একটা ঘটনা ঘটতেই পারে। সার্বিকভাবে ফর্ম বিলি ভালোই চলছে।’ আজ দিল্লি থেকে উত্তরবঙ্গে এসে পৌঁছেছে সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর নেতৃত্বাধীন দল। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়িতে ইনিউমারেশন ফর্ম বিলির কাজ খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। সেই কারণেই এদিন উত্তরবঙ্গ উড়ে যান রাজ্যের সিইও। 

Advertisement

তবে রাজনৈতিক দলগুলির বিএলএ (২)-এর সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ৭০০ জন বিএলএ’র নাম জমা পড়েছে। যার মধ্যে তৃণমূলের ২৭ হাজার ৭৪৪ জন। কিন্তু রাজ্যের শাসক দলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৮১ হাজার বুথেই তাদের বিএলএ-২ থাকছেন। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার জানিয়েছেন, বিএলও (১)-এর দেওয়া নির্দিষ্ট চিঠি নিয়েই বিএলএ-২ এই কাজে যোগ দিচ্ছেন। কমিশনের কাছে সঠিক রিপোর্ট আসছে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।’ রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, কোথাও কমিশনের তরফে বলা হয়নি যে আগে থেকে বিএলএ (২)-এর নাম জমা দিতে হবে। সেই কারণে তাঁরা কাজে যোগ দেওয়ার সময় বিএলওদের নির্দিষ্ট চিঠি দেখিয়ে তাঁদের সঙ্গে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। এসবের মাঝে ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করা নিয়ে এখনও একাধিক প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে মানুষের মনে। তাঁদের ফোনেই সকাল থেকে ব্যস্ত ছিল কমিশনের হেল্পলাইন নম্বর ১৯৫০। সূত্রের খবর, অধিকাংশই জানতে চেয়েছে, বাড়ি থেকে অনেক দূরে থাকলে কীভাবে ফর্ম জমা দেবে তারা। এসব ক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন নাগরিককে তাঁর বিএলওর নম্বর দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইন পরিষেবা দ্রুত চালু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। 
অন্যদিকে, কোচবিহারে ছিটমহলের বাসিন্দাদের ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করার দরকার আছে কি না, সেই প্রশ্নে জটিলতা তৈরি হয় এদিন। অনেকে ফর্ম নিতে অস্বীকার করেন বলেও খবর। কিন্তু এ বিষয়ে এদিন রাজ্যের সিইও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ওঁরা তো ভারতের নাগরিক। সেক্ষেত্রে নিশ্চয়ই তাঁদের ২০২৫-এর ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তাই তাঁরাও এই ফর্ম জমা করবেন।’ - ফাইল ছবি

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ