Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাসতের ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ-চর্চা বাম শিবিরেই

বামের ভোট রামে যাওয়া আটকানো যাবে? প্রার্থী ঘোষণা হতেই বারাসতে ফরওয়ার্ড ব্লক শিবিরে শুরু হয়ে গিয়েছে জোর চর্চা। নীচুতলার কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, ভুল প্রার্থী বাছাই আর জোটের সমীকরণ মিলিয়ে আবারও হাতছাড়া হতে পারে নিজেদের ভোটব্যাংক।

বারাসতের ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ-চর্চা বাম শিবিরেই
  • ১৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বামের ভোট রামে যাওয়া আটকানো যাবে? প্রার্থী ঘোষণা হতেই বারাসতে ফরওয়ার্ড ব্লক শিবিরে শুরু হয়ে গিয়েছে জোর চর্চা। নীচুতলার কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, ভুল প্রার্থী বাছাই আর জোটের সমীকরণ মিলিয়ে আবারও হাতছাড়া হতে পারে নিজেদের ভোটব্যাংক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংশয় উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বরং ২০২৪-এর ধারা বজায় থাকলে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন ধাক্কা। সব মিলিয়ে ২৬-এর লড়াই বামেদের কাছে নিছক ভোটযুদ্ধ নয়, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কঠিন পরীক্ষাও বটে! 

Advertisement

বারাসত একসময় ছিল বামেদের দুর্গ। তবে সেই সময় বহু আগেই অতীত হয়েছে। এখন অবস্থা এমন যে প্রার্থী ঘোষণার পরই নীচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ, অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যাতে বামেদের নিজস্ব ভোটব্যাংক ধরে রাখা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ফের উঠে আসছে বহুচর্চিত সমীকরণ—‘বামের ভোট রামে!’ বারাসতে চায়ের দোকান থেকে অলিগলির আড্ডা—সর্বত্র এখন এই আলোচনা। এবারের ভোটে বারাসত কেন্দ্রে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী হেমন্ত দাস। দীর্ঘদিনের পার্টিকর্মী হেমন্তবাবু একদা বারাসত পুরসভার কাউন্সিলারও ছিলেন। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, তাঁকে প্রার্থী করা নিয়ে ‘অসন্তুষ্ট’ শরিক দল সিপিএমের নীচুতলার কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, বারাসতের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে যেখানে ফরওয়ার্ড ব্লকের সংগঠন দুর্বল, সেখানে আবারও সেই দলের প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া কার্যত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। ১৯৭৭ পরবর্তী সময়ে সরল দেব, পরে বীথিকা মণ্ডলের মতো নেতাদের হাত ধরে এই কেন্দ্র বামেদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকে বদলাতে শুরু করে রাজনৈতিক সমীকরণ। একের পর এক নির্বাচনে পরাজয়, সংগঠনের ভাঙন এবং জনভিত্তির ক্ষয়—সব মিলিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক এখানে ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবুও আসন ছাড়ার প্রশ্নে অনড় থেকেছে তারা। জোটের স্বার্থে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে সিপিএম। তবে বাস্তবের মাটিতে সেই সিদ্ধান্ত কতটা গ্রহণযোগ্য? সিপিএম কর্মীদের একাংশ সাফ জানাচ্ছে, আসনটি সিপিএমকে ছাড়া হলে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই আরও জোরদার হত। এখন অনেক কর্মীই মাঠে নামতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তাই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, সমস্যা শুধু প্রার্থী নয়, জোট রাজনীতির সিদ্ধান্তে আস্থার অভাব। গত বিধানসভা নির্বাচনেই এই ভাঙনের ইঙ্গিত মিলেছিল। ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের কারণে বাম ভোটের একাংশ সরাসরি বিজেপির দিকে সরে যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও সেই প্রবণতা বজায় ছিল। এবার সেই ‘ট্রেন্ড’ আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা লাল শিবিরের। যদিও ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্ব এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে। প্রার্থী হেমন্ত দাসও আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কথায়, ‘আমি বিপুল ভোটে জিতব।’ ফরওয়ার্ড ব্লকের উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বামেরা নীতিতে বিশ্বাসী। তাই ভোট অন্যত্র যাওয়ার প্রশ্ন নেই।’ সিপিএম নেত্রী রত্না ভট্টাচার্যর মন্তব্য, ‘হেমন্ত দাসের জায়গায় একটা কলাগাছ দাঁড়ালেও আমরা তাকেই ভোট দেব।’ তবে খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিজেপি। তাদের নেতা তাপস মিত্রের কটাক্ষ, ‘আমরাও চাই দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়তে বামেরা বিজেপিকে ভোট দিক।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ