Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পিংলায় প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ বিজেপিতে, দল ছাড়লেন জেলা সম্পাদক

পিংলায় যুদ্ধের আগেই ছত্রভঙ্গ বিজেপি। প্রার্থীকে মেনে নিতে না পেরে দল ছাড়লেন বিজেপির জেলা সম্পাদক গোবিন্দ দাস। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি।

পিংলায় প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ বিজেপিতে, দল ছাড়লেন জেলা সম্পাদক
  • ২৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: পিংলায় যুদ্ধের আগেই ছত্রভঙ্গ বিজেপি। প্রার্থীকে মেনে নিতে না পেরে দল ছাড়লেন বিজেপির জেলা সম্পাদক গোবিন্দ দাস। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। পিংলার মণ্ডলবাড় এলাকার বাসিন্দা গোবিন্দবাবু দলীয় নেতৃত্বকেও নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, প্রার্থী বদলের দাবিতে পিংলা বিধানসভার চারজন মণ্ডল সভাপতির সই করা চিঠি গেল জেলা সভাপতির কাছে। যদিও তা মানতে নারাজ ঘাটাল সাংগঠনি জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস। ব্যক্তির মতামত কখনওই দলীয় সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে নয়, বললেন তন্ময়।

Advertisement

পিংলার তৃণমূল প্রার্থী তথা ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, পিংলার প্রার্থী নিয়ে এখানকার বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ, অভিমান রয়েছে। সেই আঁচ আগেই পেয়েছিলাম। অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বাংলা বিরোধীদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ে ওঁরা শামিল হতে চাইলে অবশ্যই স্বাগত জানাব। হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়েই প্রচার শুরু করেছেন বিজেপি প্রার্থী স্বাগতা মান্না। গত ১৯ মার্চ বিজেপির দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়। তাতেই পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা বিধানসভার প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হয় স্বাগতা মান্নার। স্বাগতা দেবী বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সম্পাদক পদে রয়েছেন। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া এলাকায়। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিলেন বিজেপি নেতাকর্মীদের একটা বড় অংশ। তাঁদের মতে, পিংলার তৃণমূল প্রার্থী ভূমিপুত্র তথা বিদায়ী বিধায়ক অজিত মাইতি। তিনি আবার ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদেও রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই পোড়খাওয়া এই নেতার বিরুদ্ধে একজন আনকোরা, বহিরাগত প্রার্থী কীভাবে লড়াই করবেন? জেলা নেতৃত্বের কাছে এই প্রশ্নই তুলেছিলেন বিজেপির মণ্ডল নেতৃত্ব সহ সাধারণ কর্মীরা। সূত্রের খবর, প্রার্থী বদলের দাবি তুলে সম্প্রতি পিংলা বিধানসভার চারজন মণ্ডল সভাপতি এবং এসটি সেলের জেলা সভাপতি একটি চিঠিও দেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাসকে। যদিও সেই চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করেননি তন্ময়বাবু। তবে, এই চিঠির বিষয়টি যে মিথ্যা নয়, শুক্রবার তা জানিয়েছেন গোবিন্দবাবু। এদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পিংলায় কি যোগ্য ভূমিপুত্র বা ভূমিকন্যা ছিল না? অনেকেই আছেন। প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে গোপন ব্যালটে যখন আমাদের ভোট হয়, সেখানে কিন্তু স্বাগতা মান্নার নামই ছিল না। তাহলে কোথা থেকে তিনি প্রার্থী হয়ে গেলেন? আমার পক্ষে তাই প্রচারে নামা সম্ভব নয়। বিবেকের দংশনেই নিজের সমস্ত দলীয় পদ এবং দল ছাড়ছি। 
অন্যদিকে, নিজেকে বহিরাগত মানতে নারাজ বিজেপি প্রার্থী স্বাগতা মান্না। তিনি বলেন, বহিরাগত আবার কী! আমি মোদিজির প্রার্থী। এই পরিচয়ই যথেষ্ট। আর পিংলা আমার চেনা জায়গা। পাঁশকুড়ার পাশেই। সংগঠনের কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পিংলায় যাতায়াত আমার। এখানকার মানুষ আমাকে আপন করে নিয়েছেন। প্রচারে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। এবার এখানে পরিবর্তন হবেই। যদিও, শুক্রবার অবধি হাতেগোনা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে স্কুটিতে করে অথবা হেঁটে প্রচার প্রচার করতে দেখা গিয়েছে স্বাগতা দেবীকে। তবে তা মানতে নারাজ বিজেপির জেলা সভাপতি তন্ময় দাস। তিনি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধই আছি। কোনো একজন ব্যক্তি মিডিয়ার সামনে কী বললেন, তাতে কিছু এসে যায় না। আর দল ছাড়ার বিষয়ে উনি (গোবিন্দ দাস) লিখিতভাবে আমাকে কিছু জানাননি। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী অন্তরা ভট্টাচার্যকে প্রায় সাড়ে ছ’ হাজার ভোটে পরাজিত করেছিলেন তৃণমূলের অজিত মাইতি। এবার তাঁর জয়ের ব্যবধান কমপক্ষে দ্বিগুণ হবে বলে আশাবাদী অজিতবাবু। তিনি বলেন, এই লড়াই বাংলা ও বাঙালি বিরোধীদের বিরুদ্ধে। পিংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সঙ্গেই থাকবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ