নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাস্তা তৈরির জন্য সরকারিভাবে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সেই মতো ‘ডিপিআর’ তৈরি করতে এলাকায় আসেন এক কর্মী। আর তা নিয়েই তুলকালাম কাণ্ড বাধল দত্তপুকুরের কদম্বগাছিতে। ওই কর্মী ফিরতেই শুরু হয় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর তুমুল ঝামেলা। হাতাহাতিও শুরু হয়ে যায়। দত্তপুকুর থানার পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
বারাসত ১ নম্বর ব্লকের কদম্বগাছি কারবালা থেকে কাঁঠালিয়া হয়ে জনৈক ছবি বিশ্বাসের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা দীর্ঘদিন বেহাল। ২০১৭ সালে শেষবার রাস্তাটি সংস্কার হয়েছিল। এখন গোটা রাস্তা ভরে গিয়েছে খানাখন্দে। ভুক্তভোগীরা একাধিকবার এনিয়ে দরবার করেছেন গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে পঞ্চায়েত সমিতিতে। শেষমেশ জেলা পরিষদে আবেদনের পর রাস্তাটি পিচ দিয়ে করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা তৈরির জন্য আরআইডিএফ তহবিল থেকে ১ কোটি ৯২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দও করা হয়েছে। সেই মতো শুক্রবার সকালে জায়গা পরিমাপ ও সার্বিক দিকগুলি খতিয়ে দেখতে আসেন এক কর্মী। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ আরশাদ উদ জামান। অভিযোগ, তাঁরা চলে যাওয়ার পরই তৃণমূলের অন্য একটি গোষ্ঠীর লোকজন দাবি করেন, কাজ করতে দেওয়া যাবে না। এনিয়েই ঝামেলার সূত্রপাত। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম, আরিফ তরফদাররা বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাফুজার রহমান, নিজামুল কবীর যৌথভাবে এই কাজে বাধা দিচ্ছেন। ওদের নিজেদের দ্বন্দ্বের জন্য মানুষ কেন ভুগবে?’ মাফুজার রহমান বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজ হোক, এটাই চাই। কিন্তু পঞ্চায়েতকে কিছুই জানানো হচ্ছে না। অধ্যক্ষ নিজের মতো কাজ করছেন। বিষয়টি আমরা উচ্চ নেতৃত্বকে জানাব।’ আরশাদ উদ জামান বলেন, ‘রাস্তার ডিপিআর তৈরির জন্য এজেন্সির লোক এসেছিলেন। যাঁরা বাধা দিয়েছেন, তাঁরা কতটা মানুষের ভালো চান, স্পষ্ট হল। এই কাজ জেলা থেকেই হবে। তাই আমি গিয়ে রাস্তাটা দেখিয়েছি।’ নিজস্ব চিত্র