Bartaman Logo
১০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধুলো আগাছায় নষ্ট হচ্ছে বহরমপুরের ডিসপ্লে বোর্ডগুলি, পুরসভা উদাসীন

বহরমপুরে এলইডি ডিসপ্লে বোর্ডগুলি অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। পুরসভার নজরদারির অভাবে অর্থের অপচয় হচ্ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

ধুলো আগাছায় নষ্ট হচ্ছে বহরমপুরের ডিসপ্লে বোর্ডগুলি, পুরসভা উদাসীন
  • ১০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: বহরমপুর শহরে একাধিক জায়গায় এলইডি ডিসপ্লে বোর্ডগুলি অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। পুরসভার উদ্যোগে বিপুল ব্যয়ে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের জন্য এলইডি বোর্ডগুলি বসানো হয়েছিল। যা থেকে পুরসভার নিজস্ব তহবিলে ভাল আয় হত। রাজ্যে পালাবদলের পরই বহরমপুর পুরসভায় ডামাডোল অবস্থা দেখা দেয়। যদিও তার আগে থেকেই নজরদারির অভাবে অকেজো হয়ে ঝুলছে বিজ্ঞাপনের ডিসপ্লে বোর্ডগুলি। কোথাও ডিসপ্লে বোর্ডে আগাছা ভিড় করেছে। সরকারি অর্থের এই অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে সরকারি তহবিলের টাকার কার্যত শ্রাদ্ধ হয়েছে। বহরমপুর পুর প্রশাসক তথা সদর মহকুমা শাসক সমীরণ বারিক বলেন, সদ্য প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েছি। আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

Advertisement

বহরমপুরে শহর এলাকায় বিজ্ঞাপন থেকে পুরসভার নিজস্ব খাতে প্রতি মাসে মোটা টাকা আয় হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে যেখানে বিজ্ঞাপন সহজে মানুষের নজরে আসে সেখানে লোহার কাঠামো দিয়ে বড়ো বড়ো বিজ্ঞাপনের বোর্ড বসানো হয়েছে। মাসিক বা ত্রৈমাসিক বা নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তিতে এই বোর্ডগুলি ভাড়া দেওয়া হয়। এরপর বছর দুয়েক আগে বহরমপুর শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় এলইডি ডিসপ্লে বোর্ড বসানো হয়। যেখানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থার বিজ্ঞাপন ২৪ ঘণ্টা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলত। এই বিজ্ঞাপন বাবদ পুরসভার নিজস্ব খাতে মোটা টাকা জমাও পড়ত। পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্যায়নেও এই ডিসপ্লে বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শুরুতে পুরসভার এই উদ্যোগ ও পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন নাগরিকরা। কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে ডিসপ্লে বোর্ডগুলি এখন কার্যত অকেজো অবস্থায় রোদ, ঝড়, বৃষ্টিতে অস্বিত্বের লড়াই করছে। 
শহরের জলট্যাংক মোড়ের বিশাল এলইডি ডিসপ্লে বোর্ডে ধুলোর আস্তরণ জমেছে। এমন বেশ কয়েকটি জায়গায় অবহেলায় কার্যত ধুঁকছে এই বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন বোর্ডগুলি। বহু জায়গায় বিজ্ঞাপন বোর্ডের কাঠামো খালি পড়ে রয়েছে। নতুন চুক্তি বা চুক্তির পুনর্নবীকরণের অভাবে সেগুলি থেকে পুরসভার উপার্জন প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। 
বহরমপুরের এক বাসিন্দা বলেন, উদ্যোগ খারাপ নয়। তবে নজরদারির অভাব চরম। উদাসীনতার কারণে অর্থের অপচয় হয়েছে। এক নাগরিক পুরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন। ওই নাগরিকের অভিযোগ, টেন্ডারে থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপনের চুক্তি সবেতেই দুর্নীতির ছাপ স্পষ্ট। নতুন পুরবোর্ড গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই ডামাডোল চলতেই থাকবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ