সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলাতে আসা তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠল স্টেশন মাস্টারের বিরুদ্ধে। পুণ্যার্থীদের অভিযোগ, স্টেশন এলাকায় পর্যাপ্ত শৌচালয় ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়নি। শুধু তীর্থযাত্রীরা নন, রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীদের রেলের জায়গায় ব্যবসা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকী, নন্দীগ্রাম থেকেও বহু মানুষ এখানে এসে পসরা সাজিয়ে ব্যবসা করছেন। তাঁদের অভিযোগ, গেরুয়া শিবিরের লোকজনকেই ব্যবসা জায়গা করে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। বুধবার রেলের এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায় সহ তৃণমূলের নেতৃত্ব। বিধায়ক এদিন রেলের হকারদের সঙ্গে নিয়ে আরপিএফের অফিসে বিক্ষোভ দেখান। তিনি আরপিএফ অফিসারদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেন।
রামেন্দুবাবু বলেন, শ্রাবণী মেলার সময় টিকিট বিক্রি ও স্টল ভাড়া থেকে রেল কর্তৃপক্ষ কয়েক কোটি টাকা মুনাফা করে। কিন্তু তারা যাত্রীদের ন্যূনতম পরিষেবাটুকু দেয় না। পর্যাপ্ত শৌচালয় নেই, পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থাও করা হয়নি। সোমবার ওভারব্রিজ বন্ধ করে দেওয়ায় বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য স্থানীয় মানুষকে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। রেলের জায়গায় যে সমস্ত হকার ৫০-৬০ বছর ধরে ব্যবসা করছেন, তাঁদের বলা হয়েছিল, তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য শনি, রবি ও সোমবার— এই তিনদিন ব্যবসা করা যাবে না। রেলের এই নির্দেশ ব্যবসায়ীরা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা সরে যাওয়ার পরক্ষণেই টেন্ডার মারফত রাজস্থানের কয়েকজন ব্যবসায়ীকে দোকান করতে দেওয়া হয়েছে। সেই দোকানের কর্মী হিসেবে স্থানীয় মানুষকে কাজে নেওয়া হচ্ছে না। উল্টে কাজ পাচ্ছেন নন্দীগ্রামের মানুষ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান করতে গেলে রেল পুলিস ওই দোকান ভেঙে দেয়। তাহলে ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা কীভাবে এখানে ব্যবসা করবেন? হরিপালের বাসিন্দা স্বপন পাত্র বলেন, রেলের লোকজন কারণে-অকারণে হিন্দি ভাষায় গালিগালাজ করছেন যাত্রীদের। কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটবে?
রামেন্দু সিংহ রায় বলেন, রেল এখন বিজেপির পৈতৃক সম্পত্তি হয়ে গিয়েছে। রেল না পারলে আমাদের ছেড়ে দিক। আমরা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তীর্থযাত্রীদের জন্য শৌচালয় ও জলের ব্যবস্থা করে দেব। অমৃত ভারত প্রকল্পের নাম করে রেলের বেশিরভাগ জায়গা বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। স্টেশনে যাত্রীদের দাঁড়ানোর পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, শ্রাবণী মেলার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে রেল। যাত্রীদের টিকিট কাটার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। শৌচালয়গুলি সাধ্যমতো পরিষ্কার রাখার চেষ্টা চলছে। যাত্রী শেডের পাশাপাশি মেলা উপলক্ষ্যে বাড়তি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেল ভালো কাজ করলে তার প্রশংসাও করা উচিত।-নিজস্ব চিত্র