Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়িতে ফিরলেন ঘরছাড়ারা, স্বস্তি, ছন্দে সামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ান

বাড়িতে ফিরলেন ঘরছাড়ারা, স্বস্তি, ছন্দে সামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ান
  • ২২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: পুরোপুরি স্বাভাবিক ছন্দে ফিরল সামশেরগঞ্জ। সোমবার থেকে স্থানীয় স্কুলগুলিও খুলেছে। মুখে হাসি নিয়ে স্কুলে হাজির হয়েছে পড়ুয়ারা। সামশেরগঞ্জের উপদ্রুত এলাকায় দোকানপাট আগেই খুলেছিল। এদিন থেকে ধুলিয়ান শহরের অধিকাংশ দোকানও খুলে যায়। ঘরছাড়ারা অধিকাংশই ফিরে এসেছেন। জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে মালদার বৈষ্ণবনগর থেকে নৌকো করে তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে। ধুলিয়ান শহরের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গার ঘাটে জেলা প্রশাসনের আধিকারিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রবিবার রাতে ঘবছাড়া পরিবারগুলিকে স্বাগত জানান। রবিবার প্রায় ৩০০ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাড়ি ফিরে ঘরদোর গোছানোর কাজ শুরু করেছেন তাঁরা। যাঁদের বাড়ি খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের স্থানীয় বিদ্যালয়ে রেখে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন। সবরকম ভাবে তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। 

Advertisement

তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত বেতবোনা গ্রামের অধিকাংশ মানুষই ঘরে ফিরেছেন। তবে গ্রামে ফিরে বাড়ি ও দোকানের ধ্বংসস্তূপ দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রশাসন তাঁদের বাড়িঘর ঠিক করার যাবতীয় ব্যবস্থা করেছে। যাঁদের বাড়ি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে তাঁদের নতুনভাবে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। 
বেতবোনার এক বাসিন্দা বলেন, আমরা তো কেউ ইচ্ছে করে ঘর ছাড়িনি। আতঙ্কে এক কাপড়ে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। সাজানো ঘরবাড়ি সব শেষ হয়ে গিয়েছে। নতুন করে আবার সব শুরু করতে হবে। তবে জেলা প্রশাসনের থেকে আমরা সবরকম সাহায্য পাচ্ছি। দ্রুত বাড়ি মেরামত করার ব্যবস্থা করছি। স্থানীয় বিদ্যালয়ে থেকে কাজ করাব। তবে যা ক্ষতি হল, এর কোনও হিসেব হয় না। আগামীতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করতে হবে। 
এদিন ধুলিয়ান শহর এবং সামশেরগঞ্জ ব্লকের অন্যান্য জায়গায় রাস্তাঘাটে ভালো ভিড় দেখা গিয়েছে। পড়ুয়া ভর্তি স্কুলবাসগুলিকেও রাস্তায় দেখা যায়। নিত্যানন্দ মণ্ডল নামে এক বাস চালক বলেন, গত ১০-১১ দিন ধরে খুব অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলাম। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। বিদ্যালয় খুলেছে। পড়ুয়াদের নিয়ে তো যাচ্ছি। রাস্তাঘাটে পুলিস এবং বিএসএফকে দেখতে পেয়ে কিছুটা নিশ্চিন্ত লাগছে। আমরা কখনওই চাই না যে, এই ধরনের ঘটনা আমাদের এলাকায় আর ঘটুক।  
এদিন ধুলিয়ান শহরের অধিকাংশ চায়ের দোকানে স্বাভাবিক ছবি দেখা যায়। স্থানীয় যুবক যুবতীরা দোকানে ভিড় জমিয়েছিলেন। অনেকেই খোশ মেজাজে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা মারেন। রাস্তাঘাটে যথেষ্ট সংখ্যক যানবাহন চলাচল করতেও দেখা যায়। জনজীবনের স্বাভাবিক ছবি দেখে বেশ স্বস্তিতে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। 
এদিকে, সোমবার সামশেরগঞ্জে এসে আক্রান্ত পরিবারগুলির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এদিন জাফরাবাদে মৃত বাবা ও ছেলের বাড়িতেও যান তিনি। 
সুকান্তবাবু বলেন, ঘটনার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে জানাব। বিএসএফ এখানে থাকবে। কোনও চিন্তা নেই। আমরাও চেষ্টা করছি বিএসএফকে এখানে রাখার। আপনারা ভয় পাবেন না। আমরা চাই, এখানে বিএসএফের স্থায়ী ক্যাম্প করার জন্য রাজ্য সরকার অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করুক। প্রয়োজনে আমরা কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে কথা বলে তা করার ব্যবস্থা করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ