নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে সাসপেন্ড হয়েছিলেন কাকদ্বীপ মহকুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম ম্যানেজার। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের হয়েছে। এবার রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বরখাস্ত হওয়া সেই অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম ম্যানেজার অরুণ গোরাই।
তাঁর অভিযোগ তিনি সাসপেন্ড হয়েছিন ঠিকই, কিন্তু রাজ্যজুড়ে ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার একটি চক্র চলছে। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিক আদালত। বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলার শুনানিতে তাঁর আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য দাবি করেন, অবৈধভাবে ইআরও’র নির্দিষ্ট লগইন আইডি ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা ও বাদ দেওয়ার অভিযোগে অরুণ গোরাইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকায় কারচুপির নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে তাঁর কাছে। দিনকয়েক আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র তৈরির ঘটনা সামনে এসেছে। এছাড়া দেখা গিয়েছে এরাজ্যে ভুয়ো ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বানিয়ে আধা সেনায় নিয়োগ পেয়েছে ভিন দেশের নাগরিকরা। এমনকী, পাকিস্তানি নাগরিকও আধা সেনায় নিয়োগ পেয়ে থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। শুধু একটি জেলায় নয়, গোটা রাজ্যজুড়েই অবৈধভাবে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই কাজের সঙ্গে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা যুক্ত রয়েছেন। তাই এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক।
যদিও এজলাসে উপস্থিত কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, শীঘ্রই রাজ্যে এসআইআর শুরু হবে। তখনই যাবতীয় কিছু যাচাই করা হবে। তবে মামলাকারী যদি নির্দিষ্ট করে কোনও অভিযোগ করেন সেক্ষেত্রে তা যাচাই করা হবে। সবপক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সিনহা তাঁর নির্দেশে জানিয়ে দেন, যাবতীয় অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশনকে রিপোর্ট দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১০ সেপ্টেম্বর।