নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ব্যাঙ্ক ঋণের বিকল্প হিসেবে আইপিও বা বাজারে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে বিনিয়োগ বাড়ানোই লক্ষ্য। র্যাম্প প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তুতকারক সংস্থাকে উৎসাহিত করতে তৎপর রাজ্যের এমএসএমই দপ্তর। এ বিষয়ে মঙ্গলবার হাওড়ার অঙ্কুরহাটির জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্কে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেবি নিবন্ধিত বণিক ব্যাঙ্ক, এমএসএমই দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি এদিন উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্ণধাররা।
এদিন আলোচনাসভা পরিচালনা করেন অঙ্কুরহাটি জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোককুমার বেঙ্গানি। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রধান ব্যবস্থাপক অভীক গুপ্তা, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের তরফে সায়ক সাহা, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া নিবন্ধিত বণিক ব্যাঙ্কের পরিচালক অবিনাশ গিরি, জেডইডি প্রকল্পের ডি ডি মহাপাত্র ও জেলা শিল্প উন্নয়ন আধিকারিক অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত গয়নার ব্যবসায় বড় অঙ্কের মূলধনের প্রয়োজন হয়। ব্যাঙ্ক ঋণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঝঞ্ঝাট থাকার কারণে ছোট ও মাঝারি গয়না প্রস্তুতকারকদের অনেকেই উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহ দেখান না। এই প্রস্তুতকারকরা যাতে নির্ঝঞ্ঝাটে রপ্তানি বাড়াতে পারেন, সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বাজারে শেয়ার বিক্রি করে কীভাবে প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করা যাবে, সেই প্রক্রিয়ায় তাঁদের উৎসাহিত করতে চায় রাজ্যের এমএসএমই দপ্তর। অঙ্কুরহাটি জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্ক মানুফ্যাকচারার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোককুমার বেঙ্গানি বলেন, ‘শেয়ারবাজারে নথিভুক্ত হওয়ার নিয়ম কানুনে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। আগে ব্যবসার ভ্যালুয়েশন, বাৎসরিক উৎপাদনের অঙ্ক অনেকটাই বেশি দেখাতে হতো। সেকারণে প্রস্তুতকারকরা আগ্রহ দেখাতেন না। এখন সেই মাপকাঠি অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে ছোট ও মাঝারি গয়না প্রস্তুতকারকরা সহজেই ব্যবসা বাড়াতে পারবেন।’
প্রসঙ্গত, অঙ্কুরহাটির জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্কে এই মুহূর্তে ৩৫টি সোনা ও হীরের গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট রয়েছে। এখানে ইউনিটের সংখ্যা আরও বাড়াতে চায় রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন দপ্তর। জেলা শিল্প উন্নয়ন বিভাগের আধিকারিক অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শুধু এখানে নয়, হাওড়ার প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ও ক্লাস্টারে আগামী দিনে ক্যাম্পের আয়োজন করে সংস্থাগুলিকে শেয়ারবাজারে নথিভুক্ত হতে উৎসাহিত করা হবে।’-নিজস্ব চিত্র