নয়াদিল্লি: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রী রাম কলেজ অব কমার্স (এসআরসিসি)-এর শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে গিয়ে বিরোধীদের ‘নারাজ ফুফা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘দিমাগি নকশাল’দের হোমিওপ্যাথিক ওষুধ দিয়েছেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্য নিয়ে এবার প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করল কংগ্রেস, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সহ একাধিক বিরোধী দল। এসআরসিসির মতো দেশের প্রথম সারির একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মঞ্চকে রাজনৈতিক উদ্দেশে মোদি ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তারা। তাদের বক্তব্য, বিরোধীদের নিত্যনতুন তকমা না দিয়ে শিক্ষার হাল, কর্মসংস্থানের মতো সমস্যা নিয়ে কথা বলুন প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেসের অভিযোগ, নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই মোদি বিরোধীদের নতুন নতুন তকমা দেন। তরুণ প্রজন্মের সামনে গঠনমূলক বিষয় সামনে রাখতে মোদি ব্যর্থ।
রবিবার এক্স হ্যান্ডলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে লিখেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদিজি, গতকাল আপনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এসআরসিসিতে গিয়েছিলেন। সেখানে আপনি দেশের তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষা ও তাঁদের ভবিষ্যত্ সম্পর্কে কথা বলতে বলতে পারতেন। অথচ তরুণদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার বদলে আপনার ভাষণ ফের রাজনৈতিক প্রচারে পরিণত করলেন।’ খাড়্গে আরও লিখেছেন, ‘গণতন্ত্রে প্রশ্ন করার অধিকারকে দমন করার জন্য বিরোধীদের নতুন নতুন তকমা দেন। এটা আসলে তাঁর নিজের ব্যর্থতা আড়ালের চেষ্টা। নারাজ ফুফা, দিমাগি নকশাল, আরবান নকশাল, খান মার্কেট গ্যাং, আন্দোলনজীবী, পরজীবী—তকমা বদলাতে থাকে, কিন্তু মোদি সরকারের জনবিরোধী নীতির বদল হয় না। মোদিজি, আউটরিচ বা জনসংযোগের প্রয়োজন তখনই পড়ে, যখন কারও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’
কংগ্রেস নেতা পবন খেড়ার অভিযোগ, তরুণ প্রজন্মের সামনে গঠনমূলক কিছু না বলে বিরোধীদের গালিগালাজ করা একজন প্রধানমন্ত্রীর জন্য চরম ব্যর্থতার পরিচায়ক। ওঁর কাছে এখন আর কোনো নতুন, গঠনমূলক ভাবনা নেই। অর্থবহ কিছু বলার মতো রসদও অবশিষ্ট নেই। মোদির ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ সিজেপিও। দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘অবিশ্বাস্য! ভারতের অন্যতম সেরা একটি কলেজে গিয়ে জিজ্ঞাসু তরুণ প্রজন্মকে আবারও দিমাগি নকশাল বলে দাগিয়ে দেওয়াটা একজন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অত্যন্ত লজ্জাজনক কাজ। তাও আবার শিক্ষক দিবসে!’ সিজেপির কো-কনভেনর আশুতোষ রাঙ্কার বক্তব্য, ‘এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, চাকরি, পড়ুয়াদের চ্যালেঞ্জ এবং আগামী ২০ বছরের জন্য অন্য দেশের তুলনায় ভারত নিজেদের আলাদা করে তুলতে কী পদক্ষেপ করবে—এই সব বিষয়ে আলোচনা করতে পারতেন। তার বদলে উনি দিমাগি নকশাল ইত্যাদি কথা বললেন। অবশ্য এন্টায়ার পলিটিক্যাল হিস্ট্রির উপর আপনার ডিগ্রি থাকলে এমনটাই হয়।’