Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নলি কাটা দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য প্রেমের বলি, অনুমান পুলিসের

নলি কাটা দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য প্রেমের বলি, অনুমান পুলিসের
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নির্মাণ সংস্থার অফিসে কাজ করতেন দু’জনেই। প্রেম-প্রণয়ের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অফিস ছুটি হতে হতে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা-সাতটা। রাতে বিরেতে প্রেমিকাকে একা ছাড়তেন না কোনওদিনই। বাইকে করে বাড়ি পৌঁছে তবেই নিজের ঘরে ফিরতেন বছর তেইশের তরতাজা যুবক দেব সিং। বুধবার রাতেও এই রোজ-রুটিনের কোনও ব্যতিক্রম হয়নি। শুধু ব্যতিক্রম হয়ে উঠল পথটাই। চেনা পথ, প্রিয় মুখ যে এভাবে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে, তা বোধহয় ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি দেব! আর ভাবতে পারেননি বলেই তাঁরই তাজা রক্তে পিছল হল সেই পথ। বৃহস্পতিবারের ভোরের সূর্যটাও দেখা হল না তাঁর! কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ি সংলগ্ন রাস্তার উপর দেবকে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। নিথর দেহ তাঁর। গলার নলি কাটা। চাপচাপ রক্ত দেহের চারপাশে। কিছুটা দূরে পড়ে দেবের শখের বাইক। দুপুরে ঘটনাস্থলে এসে দেবকে চিনতে পেরে আর্তনাদ পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু প্রশ্ন হল, চেনা পথে কে আচমকা আততায়ী হয়ে উঠল? পরিবার সরাসরি আঙুল তুলেছে প্রেমিকার দিকেই। দেবের পরিজনদের অভিযোগ, এই হাড়হিম করা খুনে যুক্ত প্রেমিকাই।  প্রাথমিক তদন্তে পুলিসও জানতে পেরেছে, পুরো ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে এক মহিলাই। সম্ভবত সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই এই খুন।

Advertisement

এদিন, ডিসি (পশ্চিম) সন্দীপ কাররা বলেন, ‘প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছিল এটি দুর্ঘটনা। পরে বোঝা বোঝা যায় ওই যুবককে খুন করা হয়েছে। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই আমরা এনিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগটি যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ 
দেবের বাড়ি নিঘা এলাকায়। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। প্রায় তিন বছর ধরে কুলটি থানার এলাকায় ওই নির্মাণ সংস্থার অফিসে কাজ করতেন দেব। বাবা দিলীপ সিং একটি বেসরকারি কারখানায় কর্মরত। মৃতের পরিবারের দাবি, অফিসেরই এক মহিলা কর্মীর সঙ্গে তাঁর প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সন্ধ্যা ছ’টা-সাড়ে ছ’টার সময়ে অফিস ছুটি হলে দেব প্রেমিকাকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে ছাড়তে যেত। ফের সেখান থেকে সীতারামপুর এথোড়া রাস্তা হয়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বাড়ি ফিরত। ফিরতে ফিরতে রাত ন’টা হয়ে যেত। বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত দেব বাড়ি ফেরেনি। খোঁজ নেওয়া শুরু করেন পরিবারের লোকেরা। কিন্তু কোথাও তাঁর হদিশ মেলেনি। 
এদিকে, রাতেই সীতারামপুর এথোড়া রাস্তাতেই দেবের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তাঁরাই পুলিসকে খবর দেন। পুলিস এসে দেখে প্রায় ৫০ মিটার রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রক্তের দাগ। রাস্তার পাশেই একটি ঝোঁপে পড়েছিল দেহটি। পাশেই দেবের বাইক। তাতে রক্ত গড়িয়ে পড়ার চিহ্ন। ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করে পুলিস মোটামুটি নিশ্চিত, এই ঘটনার পিছনে ঘনিষ্ঠ কারও হাত রয়েছে। সম্ভবত আততায়ী দেবের বাইকের পিছনে বসে ছিল। সেই পিছন থেকে নলি কেটে দিয়েছে। একমাত্র পুত্রকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন মা। বাবা দিলীপ সিং ঘটনাস্থলে এসে বলেন, ‘খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমার ছেলের সঙ্গে কাজ করত এক তরুণী। তার সঙ্গেই ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই ওকে বাড়ি পৌঁছাতে যেত। ঘটনার পর ওই মেয়েটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করছে। পুলিস সঠিক পথে তদন্ত করলে সব পরিস্কার হয়ে যাবে।’ অভিযুক্ত প্রেমিকা অবশ্য বলেন, ‘আমরা সহকর্মী। অফিসের কর্তার নির্দেশে দেব আমাকে বাইকে করে নিয়ে আসত।’ - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ