নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: জেলা বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল থামার কোনও লক্ষণ আপাতত নেই। এই কোন্দলের মধ্যমণি বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। ইতিমধ্যেই তাঁর অনুগামীদের মারধর করাও হয়েছে। সেই ঘটনার ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও আদি বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত রাহুল সিনহাকে। সোমবার মেদিনীপুর শহরের কালেক্টরেট মোড়ে জেলা বিজেপির তরফে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ‘পাকিস্তানি হটাও’ দাবি তুলে বিক্ষোভ সভা ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। উপস্থিত ছিলেন রাহুল সিনহা ছাড়াও মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি শমিতকুমার মণ্ডল সহ প্রথম সারির নেতারা। জানা গিয়েছে, এদিন দ্বন্দ্ব ভুলে দুই গোষ্ঠীর নেতা ও সমর্থকরা বিক্ষোভ সভায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কোন্দল কি আদৌ থামছে? এনিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এক বিজেপি নেতা বলেন, দিলীপ ঘোষের বেশকিছু ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভ আরও বেড়েছে। দিলীপবাবুকে একেবারেই পছন্দ করছে না দলের একাংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও অনেকেই সোচ্চার হচ্ছেন। দলের নির্দেশেই চুপ রয়েছে কর্মী সমর্থকদের একাংশ।
এদিন দিলীপ ঘোষ ও জেলার কার্যালয়ে মারপিটের প্রসঙ্গে রাহুল সিনহা বলেন, দিলীপদার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়া পার্টির কাছে অনভিপ্রেত ছিল। এটা কাম্য ছিল না। বিষয়টি সম্পূর্ণ দলীয় ভাবে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ এই বিষয় নিয়ে বাইরে আর বলার অবকাশ নেই। আমি মনে করি, যা হয়ে গিয়েছে সেই সব ভুলে, আমরা চাই না বিজেপির কোনও নেতা এনিয়ে মুখ খুলুক। এতে পার্টির ক্ষতি হবে, কিন্তু তৃণমূলের লাভ হবে। একইসঙ্গে পরিবেশের ক্ষতি হবে।
প্রসঙ্গত, বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষের ঝোড়ো ব্যাটিং দেখছে রাজ্যবাসী। সেই ঝড়েই কার্যত আড়াআড়িভাবে ভাগ হয়ে গিয়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের মধ্যে অনেকেই দিলীপবাবুর কর্মকাণ্ডকে পছন্দ করছেন না। তাঁদের মতে, দিলীপ ঘোষ দলের নিয়ম নীতি পালন করছেন না। অনেক সময়েই দল বিরোধী কথা বলছেন। এতে হতাশ হচ্ছেন দলের নিচুতলার কর্মীরা। এতে লাভবান হবে তৃণমূল। তাই দিলীপ ঘনিষ্ঠদের জন্য জায়গা ছাড়া হচ্ছে না। তবে দলের নির্দেশে প্রকাশ্যে চুপ থাকলেও, ঠান্ডা লড়াই চলছেই।অপরদিকে, দিলীপ ঘনিষ্ঠরা জানাচ্ছেন, জঙ্গলমহলে বিজেপির উত্থানের পিছনে দিলীপবাবুর বড় ভূমিকা আছে। দিলীপ ঘনিষ্ঠ সদ্য নির্বাচিত সভাপতিকে মারধরের ঘটনা উচ্চ নেতৃত্বের একাংশ ভালো চোখে দেখেনি। তৃণমূল থেকে আসা এক নেতার কথায় চলছে দলের একাংশ। এর ফলে সংগঠন দুর্বল হচ্ছে। এক বিজেপি নেতা বলেন, দলের সংগঠন নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই। কোনও কর্মসূচি করলে লোক জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এগুলো একেবারে ভালো চোখে দেখছে না। নিচুতলায় সংগঠন একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে।জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, দলটাই দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। শুধু ধর্মের নামে রাজনীতি করছে। বাংলাকে সব দিক থেকে বঞ্চনা করা হচ্ছে। সেদিকে মাথাব্যথা নেই। সাধারণ মানুষ উন্নয়ন চায়। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের পর দলটাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। মেদিনীপুর শহরে বিদ্যাসাগর হলে গীতা পাঠ অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষ।-নিজস্ব চিত্র