সংবাদদাতা, বনগাঁ: স্কুলের মধ্যে অশালীন আচরণ করায় ছাত্রকে শাসন করেছিলেন শিক্ষক। সেই ‘অপরাধে’ স্কুলে বহিরাগতদের নিয়ে চড়াও হয়ে ওই শিক্ষককে কোমরের বেল্ট দিয়ে মারধর করলেন ছাত্রের বাবা। তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনে। অভিভাবকের বিরুদ্ধে গোপালনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। এই ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকারা।
সোমবার একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাজ চলছিল। সেই সময় কয়েকজন ছাত্র অশালীন আচরণ করে বলে অভিযোগ। স্কুলের বাংলার শিক্ষক কয়েকজন ছাত্রকে শাসন করেন। বকা দেন তাদের। এতেই চটে যায় এক ছাত্র। বিষয়টি ফোনে বাবাকে জানায় সে। তৎক্ষণাৎ ছুটে আসে ওই ছাত্রের বাবা দেবব্রত দাস, মা, কাকা ও কয়েকজন বহিরাগত। অভিযোগ স্কুলের শিক্ষকদের ঘরে ঢুকে শাসায় ওই ছাত্রের বাবা। কেনো ছেলেকে শাসন করেছেন জানতে চান। এরপরই ছেলেকে শাসন করার প্রতিশোধ নিতে কোমরের বেল্ট খুলে বাংলার শিক্ষককে মারধর শুরু করে। ঠেকাতে গেলে আক্রান্ত হন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সমরেশচন্দ্র মণ্ডল। দেবব্রত দাস সহ বেশ কয়েকজনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। দেবব্রত দাস ওরফে ধনঞ্জয় দাসকে গ্রেপ্তার করেছে গোপালনগর থানার পুলিশ। সমরেশবাবু বলেন, ছাত্রকে শাসন করে মার খাওয়া এই ঘটনা খুবই নিন্দাজনক। এই ঘটনার পর থেকে আমরা আতঙ্কে রয়েছি।
এদিনের ঘটনার পর শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এবিষয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া বলেন, শিক্ষকদের উপর আক্রমণ কোনোভাবে মেনে নেওয়া যাবে না। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।