নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত মামলার নথি সংগ্রহকে কেন্দ্র করে এবার মমতা তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে সংঘাত। একদিকে করিমপুরের জেলা পরিষদ সদস্য অনুভা মুখোপাধ্যায়কে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কারের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ তথা নদীয়া উত্তরের মমতা তৃণমূলের জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্র। অন্যদিকে, রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই নথি সংগ্রহের কাজ করছেন বলে দাবি অনুভাদেবীর। আর এই বিতর্কে এবার মুখ খুললেন কালীগঞ্জের বিধায়ক তথা মমতা তৃণমূলের রাজ্য মহিলা সভানেত্রী আলিফা আহমেদ। তাঁর বক্তব্য, ‘এই কাজে সকলকেই একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’ ফলে এনিয়ে ফের মতানৈক্য সামনে এসেছে।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে অনুভাদেবীকে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কারের কথা জানান মহুয়াদেবী। তিনি দলের জনপ্রতিনিধিদের অনুভাদেবী ও তাঁর স্বামীর ফোনের কোনো জবাব না দেওয়া এবং কোনো নথি না দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেইমতো শুক্রবার সন্ধ্যায় এনিয়ে নদীয়া জেলা পরিষদের এক কর্মাধ্যক্ষ, বিধায়ক এবং রাজ্যের এক সাংসদের সঙ্গে কনফারেন্সে কথা হয় মহুয়াদেবীর। এদিকে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই নথি সংগ্রহ করছেন বলে দাবি করেন অনুভাদেবী। তাঁর বক্তব্য, এই কাজের দায়িত্বে রয়েছেন বিধায়ক আলিফা আহমেদ ও রুকবানুর রহমান। এই বিতর্কের মধ্যেই শনিবার ফের সামাজিক মাধ্যমে অনুভাদেবীকে নিশানা করেন মহুয়াদেবী। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, এরপরও কেউ নির্লজ্জ বেহায়ার মতো মিথ্যা কথা বলে তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক। আবার বলছি লোভী, গদ্দাররা যারা দলের সঙ্গে দুর্দিনে বেইমানি করেছে দলে তাদের কোনো জায়গা নেই।
যদিও এবিষয়ে তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদের বক্তব্য, সকলকেই এই কাজটা করতে বলা হচ্ছে। কারণ সুপ্রিম কোর্টে প্রতীক নিয়ে মামলার প্রমাণ হিসাবে নথি দিতে হবে। একদম শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে নির্দেশ এসেছে সকলে মিলেই যুদ্ধে নামতে হবে। কেউ এগিয়ে এসে এই কাজ করছে মানে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে। সকলকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই কাজটা করতে হবে। অবশ্যই মহুয়াদি আমাদের জেলা সভাপতি, তিনিও সবাইকে নির্দেশ দিচ্ছেন।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নদীয়া জেলার ১৭টি বিধানসভার মধ্যে ১৪টিই হাতছাড়া হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। নদীয়া উত্তরেও একাধিক নেতা-কর্মী দলের কর্মসূচি থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। কার্যত অভিভাবকহীন পরিস্থিতিতে সংগঠনকে ফের চাঙ্গা করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে নেতৃত্বের সামনে। কয়েক মাস আগেই সংগঠনকে চাঙ্গা করতে একাধিক কর্মী বৈঠক করেছিলেন মহুয়াদেবী। এমনকি, পুরানো দূরত্ব ভুলে আলিফা আহমেদ ও মহুয়া মৈত্রকে সংগঠনের হাল ধরতে দেখা যায়। সেই মতো একসঙ্গে তাঁরা কর্মী বৈঠক করেন। বেশ কয়েকটি বৈঠকে বিভিন্ন তাঁদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। কোথাও কোথাও ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছিল।



