Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হীরাপুরে পালক বাবা-মায়ের মৃত্যুতে বিপাকে দিব্যাঙ্গ কিশোর

হীরাপুরে পালক বাবা-মায়ের মৃত্যুতে বিপাকে দিব্যাঙ্গ কিশোর
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পালক বাবা-মা মারা যাওয়ায় বিপাকে হীরাপুরের সাঁতা গ্রামের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন কিশোর। প্রশাসনের নজরে আসতেই কিশোরকে সরকারি হোমে রাখার তোড়জোড় শুরু করলেন মহকুমাশাসক।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাঁতা গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ মাজি ছিলেন সরকারি কর্মচারী। প্রদীপবাবু ও তাঁর স্ত্রী মিঠু মাজির একমাত্র ছেলে ২০০৭ সালে বাইক দুর্ঘটনায় মারা যায়। তারপর ২০০৮ সালে তাঁরা সরকারি হোম থেকে নিয়ম মেনে একটি প্রতিবন্ধী শিশুকে দত্তক নেন। সুখের সংসার ছিল তাঁদের। শিশুটি শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও বাবা-মায়ের স্নেহে সে বড় হয়ে উঠছিল। জানা যায়, তার মাসে তিন হাজার টাকার ওষুধ লাগে। কিন্তু হঠাৎই করোনাকালে সুখের সংসারে ঝড় আসে। ২০২০ সালে মারা যান বাবা প্রদীপ মাজি। তারপর মা মিঠু মাজিই সংসার টেনে নিয়ে গিয়েছেন। একা হাতেই সন্তানের লালনপালন করেছেন। 
কিন্তু অঘটন ঘটে যায় ২০২৫ সালের ৮ মার্চ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫ মার্চ একটি বিয়েবাড়ি থেকে সর্দিকাশির উপসর্গ নিয়ে আসেন। ৬ মার্চ একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউয়ে তাঁকে ভর্তি করা হয়। প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে একা জীবনযুদ্ধে লড়া মা মিঠু মাজি নারী দিবসের দিন মারা যান। এরপরই বিশবাঁও জলে পড়েছে ১৬ বছরের কিশোরের ভবিষ্যৎ। মা মারা যাওয়ার পর আপাতত আত্মীয়দের কাছেই রয়েছে সে। কিন্তু তাঁদের পক্ষে ছেলেটির সারা জীবনের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে আসানসোলের মহকুমা শাসক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য প্রশাসনিক কর্মী ও আধিকারিকদের কিশোরের কাছে পাঠান। তিনি বলেন, আমাদের জেলায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন কিশোরদের রাখার কোনও সরকারি হোম নেই। অন্য কোনও জেলায় এই ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তার খোঁজ শুরু হয়েছে। খোঁজ পেলেই আমরা ওকে সেখানে রাখার ব্যবস্থা করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ