লখনউ: অসুস্থ গোরক্ষপুর এইমসের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর। অথচ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকায় তাঁকে ভরতি করতে হল বেসরকারি হাসপাতালে। হৃদযন্ত্রের চিকিৎসার জন্য তাঁকে বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করল এইমস কর্তৃপক্ষ। কারণ ক্যাথল্যাব পরিষেবা এখনও চালু হয়নি। সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশ। গোটা ঘটনায় বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েছে বিজেপি সরকার। সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদবের কটাক্ষ, ‘বিজেপির শাসনকালে এইমসেরও চিকিৎসার প্রয়োজন। সত্যিই অন্ধকারে ডুবে থাকা একটি শহরের নিয়ম। বাকিটা মিথ্যে প্রচার।’ পালটা অখিলেশের আমলের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে খোঁচা দিয়েছেন যোগী সরকারের মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভর।
২০১৬ সালের ২২ জুলাই গোরক্ষপুর এইমসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করেন তিনি। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ পাঁচ বছর। কিন্তু হৃদযন্ত্রের চিকিৎসার জন্য পরিষেবাই এখনও চালু হয়নি এই এইমসে।
চাপের মুখে পড়ে কার্যত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, এইমসের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পরেই এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) বিভা দত্তের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে তাঁকে ক্যাথল্যাব যুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘ক্যাথ ল্যাব চালুর কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ। খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় যন্ত্র চলে আসবে। সব ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাসেই পরিষেবা চালু হবে।’
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবার বিকেল ৫টা নাগাদ বিভাদেবীকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পেসমেকার লাগবে কি না তা ঠিক করতেই এই পদক্ষেপ। শারীরিক পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানান, এই মুহূর্তে পেসমেকার বসানোর দরকার নেই। সেদিনই রাত ৮টা নাগাদ বাড়ি ফেরেন গোরক্ষপুর এইমসের ডিরেক্টর। তবে হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও বিতর্ক এড়ানো যায়নি।



