Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশে দুধকুমার নদীর গতিপথ আটকানোয় বিপদে দিনহাটার চাষিরা

বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদলের পর দুধকুমার নদীর জল আটকে দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ভারতীয় চাষিরা।

বাংলাদেশে দুধকুমার নদীর গতিপথ আটকানোয় বিপদে দিনহাটার চাষিরা
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:১০
Prefer us on Google

মনসুর হাবিবুল্লাহ, দিনহাটা: বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদলের পর দুধকুমার নদীর জল আটকে দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ভারতীয় চাষিরা। দিনহাটা-২ ব্লকের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই নদী বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার রামপুর গ্রামে প্রবেশ করেছে। ওপার বাংলায় নদীটি ত্রিমোহনী নামে পরিচিত। অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকেই নদীর ওপারে রামপুর গ্রামের বাসিন্দারা বাঁশ ও বস্তা দিয়ে নদীর গতিপথে বাধা সৃষ্টি করেছেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শেষ প্রান্ত আটিয়ালডাঙ্গা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে তৈরি হয়েছে এই বাঁধ। সেই বাঁধের জলে মাছ ধরছেন ওপার বাংলার বাসিন্দারা।

Advertisement

নদীর স্বাভাবিক গতিপথে বাধা তৈরি হওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন ভারতীয় চাষিরা। বামনহাট-২ ও চৌধুরীহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ১৫ হাজার চাষির ধানজমিতে জল জমে যাওয়ায় সমস্যা বাড়ছে। নদীর গতিপথে         বাংলাদেশে বেড়া দেওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এখন এপারের জমিতে জল দাঁড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। ধানের জমি প্রায় জলে ডুবে থাকছে। দিনহাটা -২ ব্লকের অন্যতম নিকাশির পথ এই নদী নিয়ে গত বছর সমস্যা ছিল না। তবে, বাংলাদেশের পালাবদলের পরেই নদীর জল বাধা পাচ্ছে। 
অবসরপ্রাপ্ত বিএসএফ কর্মী প্রমোদ চন্দ্র বর্মন বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পালাবদলের পরে দুধকুমার নদীর উপরে বাঁধ বানিয়েছে ওপার বাংলার লোকেরা। সীমান্তের কাছে এভাবে অবৈধভাবে বাঁধ দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। তার জেরেই আমাদের জমিতে জল জমে ধানের ক্ষতি হচ্ছে।
আটিয়ালডাঙ্গার বাসিন্দা মুন্না হকের কথায়, বাঁধ তৈরি নিয়ে কিছু বললে বাংলাদেশিরা বলে, এপারে ফরাক্কা বাঁধ নিয়ে আমরা বাধা দিইনি, এক্ষেত্রেও বাধা মানা হবে না। 
বামনহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সন্তোষ রায় বলেন, আগে সহজেই জল দুধকুমার নদী বেয়ে চলে যেত। ওপার বাংলায় নদীর উপরে বাঁধ দিয়েছে বলে এখন সামান্য বৃষ্টিতেই এদিকের জমিতে জল জমে যাচ্ছে।
দিনহাটা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আব্দুল আজিজ জানান, ‘প্রথমে আটিয়ালডাঙ্গা সীমান্তের কাছেই বাংলাদেশিরা বাঁধ দিয়ে মাছ ধরত। বিএসএফের মাধ্যমে আপত্তি জানানোয় সেই বাঁধ সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তারা সীমান্ত থেকে আরও প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নতুন বাঁধ দিয়েছে। সেই কারণেই এখন ভারতে জল জমে রয়েছে।’ 
 নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ