Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডাইনি সন্দেহে বউদিকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ

ডাইনি সন্দেহে বউদিকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ
  • ৫ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: সোমবার রাতে বিনপুর-২ ব্লকের ধন্দুপাল গ্ৰামের কুসংস্কারের বলি হলেন গৃহবধূ রাধারানি পাতর(৪৫)। ডাইনি সন্দেহে তাঁর দেওর রঞ্জিত পাতর মাথায় কুড়ুলের কোপ মেরে তাঁকে খুন করে। রাধারানিদেবীর পুত্রবধূ, মেয়ে ও এক প্রতিবেশী বাঁচাতে গেলে তাঁদেরও কোপ মারে। গুরুতর জখম অবস্থায় চারজনকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাধারানিদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। বাকি তিনজনের চিকিৎসা চলছে। 
Advertisement
বেলপাহাড়ীর এসডিপিও শ্রেয়া সরকার বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে সমস্যা চলছিল। অভিযুক্ত কয়েকদিন আগে ঝাড়গ্রামে একজন গুনিনের কাছে গিয়েছিল। কুসংস্কারের বশেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। বিনপুর -২ ব্লকের এড়গোদা গ্ৰাম পঞ্চায়েতে প্রত্যন্ত গ্রাম ধন্দুপাল। পাশেই ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সীমানা। গ্ৰামে গোপ ও শবর সম্প্রদায়ের বসবাস। বেশিরভাগই দিনমজুরের কাজ করেন। গ্ৰামের শেষ প্রান্তে দুই ভাই  দিলীপ ও রঞ্জিত পাতরের পাশাপাশি বাড়ি। দুই ভাইয়ের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল না। রঞ্জিতের স্ত্রী অসুস্থ হয়। তারজন্য রঞ্জিত তার বউদিকে দায়ী করে ‘ডাইনি’ অপবাদ দেওয়ায় সম্পর্ক আরও খারাপ হয়। 
সোমবার রাত ৯টা নাগাদ রাধারানিদেবী বাড়ির উঠানে পাতা উনুনে রান্না করছিলেন। সেইসময় রঞ্জিত তার বউদির মাথায় কুড়ুলর কোপ মারে। শাশুড়িকে বাঁচাতে তাঁর পুত্রবধূ জয়িতা পাতর, মেয়ে অঞ্জলি ও প্রতিবেশী চম্পা শবর ছুটে যান। তাঁদেরও কুড়লের কোপ মারা হয়। চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা জড়ো হন। তাঁরা রঞ্জিতকে ধরে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখেন। পুলিসকে খবর দেওয়া হয়। এই ঘটনার সময় রাধারানিদেবীর স্বামী দিলীপ পাতর ও ছেলে অমিত পাতর বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে বিনপুর থানার বিশাল পুলিস বাহিনী গ্রামে আসে। জখমদের উদ্ধার করে শিলদা গ্ৰামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক রাধারানিদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকিদের ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 
মঙ্গলবার গ্ৰামে ছিল থমথমে পরিবেশ। গ্ৰামবাসীদের বক্তব্য, গ্ৰামে বাচ্চাদের ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা হলে গুনিন ডাকা হয় ঠিকই। তবে এই ধরনের ঘটনা তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। প্রতিবেশী জিতেন শবর বলেন, গ্ৰামে গুনিন, ওঝা আসে। তবে এই ঘটনাকে সমর্থন করতে পারছি না। ছেলে অমিতবাবু বলেন , ঘটনার সময় মা, বোন ও স্ত্রী বাড়িতে ছিল। আমরা ছিলাম না। সেই সুযোগে কাকা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। কাকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ