নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে অধিকাংশই রয়েছে তৃণমূলের দখলে। কিন্তু ‘ডিম থেরাপি’ এবং দুর্নীতির অভিযোগে মারধরের ভয়ে পঞ্চায়েতেই আসছেন না অধিকাংশ প্রধানসহ সদস্যরা। ফলে উন্নয়নের কাজ কার্যত থমকে গিয়েছে ২০০০-এর বেশি পঞ্চায়েতে। ধাক্কা খাচ্ছে ভি বি জি রামজি থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্প। এই অবস্থায় পঞ্চায়েত প্রধানদের দিয়ে কাজ করাতে নজিরবিহীন নিদান দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সোমবার বিধানসভায় পঞ্চায়েত বাজেট নিয়ে আলোচনার জবাবি ভাষণে তিনি বলেন, ‘পঞ্চায়েতে না এলে পুলিশকে দিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে এসে সই করাব। ভাতা নিচ্ছেন, মাইনে নিচ্ছেন আর কাজ করবেন না? এটা চলবে না। হয় কাজ করুন, নাহলে পদত্যাগ করুন।’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডিমের ভয়ে পঞ্চায়েতে আসছেন না তৃণমূল জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু এর জ্বালা মানুষকে পোহাতে হবে কেন? তিন-চার মাস না এলে পরিষেবা কী করে দেবেন? আমি বলছি প্রোটেকশন দেব। তার পরেও কেন পঞ্চায়েত আসবেন না?’ তাঁর মতে, তৃণমূলের প্রতিনিধিরা গায়ের জোরে জিতেছিলেন। সেই কারণেই তাঁদের এত ভয়।
গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সইসাবুদের জন্য সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে হয় প্রধানদের উপর। ফলে তাঁরা অফিসে না আসায় আটকে থাকছে উন্নয়নের কাজ। এই সমস্যার পাকাপাকি সমাধানের জন্য আইনে বদল আনা হবে। চলতি সপ্তাহেই বিধানসভায় এ সংক্রান্ত বিল আসবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই আর্থিক বছরে পঞ্চায়েত দপ্তরের জন্য প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করেছে রাজ্য অর্থদপ্তর। এর জন্য অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দিলীপবাবু। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে তাঁর দপ্তর কাজ শেষ করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েছে বলেই তাঁর দাবি। কিন্তু সেক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে ১১ হাজার শূন্যপদ। দ্রুত পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই শূন্যপদ পূরণের পদক্ষেপ করা হবে। যা সম্পূর্ণ হলে কাজের গতি অনেকটাই বাড়বে বলে তাঁর মত। তবে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি স্কিমের জন্য পূর্বতন সরকারের আমলে নেওয়া ১ লক্ষ অস্থায়ী কর্মীর সমস্যার বিষয়টিও বিধানসভায় উল্লেখ করেন দিলীপবাবু। তিনি বলেন, ‘এই কর্মীদের ভূত-ভবিষ্যৎ কিছুই ঠিক করে যায়নি আগের সরকার। কিন্তু আমরা বিভিন্ন প্রকল্পের সমীক্ষা ইত্যাদি কাজে এঁদের কাজে লাগাচ্ছি।’
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় প্রকল্প এনএসএপি’র মাধ্যমে বার্ধক্য, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতা এক হাজার থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। প্রসঙ্গত, রাজ্যের সমস্ত বার্ধক্য ভাতা প্রাপকের আর্থিক সহায়তা ১৫০০ টাকা করা হবে বলে বাজেটেই ঘোষণা করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।