Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তেজনার মধ্যেই খড়্গপুরে দিলীপ-প্রদীপের সৌজন্য, ভোটের সকালে গরম, বিকেলে নরম!, দু’দলের স্লোগান

‘রেল শহর’ খড়্গপুরে বিভিন্ন ধর্ম , ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ বাস করেন। মিশ্র সংস্কৃতির জন্যই এই শহরকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ নামেও ডাকা হয়। সেই মিনি ইন্ডিয়াতে বরাবরই ভোটের উত্তাপ চরমে থাকে।

উত্তেজনার মধ্যেই খড়্গপুরে দিলীপ-প্রদীপের সৌজন্য, ভোটের সকালে গরম, বিকেলে নরম!, দু’দলের স্লোগান
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ‘রেল শহর’ খড়্গপুরে বিভিন্ন ধর্ম , ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ বাস করেন। মিশ্র সংস্কৃতির জন্যই এই শহরকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ নামেও ডাকা হয়। সেই মিনি ইন্ডিয়াতে বরাবরই ভোটের উত্তাপ চরমে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যদিও শেষমেশ নজিরবিহীনভাবে কঠোর নিরাপত্তায় শান্তিতেই ভোটপর্ব মেটে। বৃহস্পতিবার দিনের শেষে ভোট পড়ছে প্রায় নব্বই শতাংশের কাছাকাছি। এদিন শুরুতেই তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকারের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় খড়্গপুর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খরিদা মিলন মন্দির এলাকায়। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন তৃণমূল প্রার্থী। তবে, বিকেলে শহরের ৫নম্বর ওয়ার্ডের দেবলপুরে ‘যুযুধান’ দুই প্রার্থীর মধ্যে দেখা গিয়েছে সৌজন্যের নজির।

Advertisement

এদিন সকালে খড়্গপুর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৭ নম্বর বুথে সস্ত্রীক ভোট দিতে যান তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। সেখানে গিয়ে প্রদীপবাবু দেখেন, বুথের ঠিক বাইরের কার্নিশেই লাগানো রয়েছে বিজেপির পতাকা। সেইসঙ্গেই একশো মিটারের মধ্যে রয়েছে বিজেপির আরও অনেক পতাকা। বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের নামে দেওয়াল লিখনও ছিল বুথের ঠিক পাশেই। এরপরই কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন প্রদীপবাবু। তাঁদের সঙ্গে বচসা বাঁধে স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের। সেক্টর অফিসারের সঙ্গেও বচসায় জড়ান তৃণমূল প্রার্থী। উত্তেজনা ছড়ালে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কুইক রেসপন্স টিমের জওয়ানরা। পরে কিছু পতাকা খোলা হয়। প্রদীপবাবু বলেন, বিজেপির হয়েই যে কমিশন কাজ করছে, এর থেকে জ্বলন্ত প্রমাণ আর কি থাকতে পারে! 
বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ বলেন, নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করুক তৃণমূল। অন্যদিকে, এদিন বিকেলে বুথ পরিদর্শনে বেরিয়ে মুখোমুখি হয়ে যান ‘যুযুধান’ দুই প্রার্থী প্রদীপ সরকার এবং দিলীপ ঘোষ। এরপরই হাসিমুখে একে অপরের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন তাঁরা। মিনিট খানেক একে অপরের সঙ্গে কথাও বলেন দিলীপ ও প্রদীপ। সেইসময় দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা হাসিমুখে স্লোগান দিতে থাকেন। একপক্ষ বলতে থাকেন ‘জয় শ্রীরাম’। অপরপক্ষ ‘জয় বাংলা’। 
খড়্গপুর শহরের ৫নম্বর ওয়ার্ডের দেবলপুর প্রাথমিক স্কুলে (৭৩ ও ৭৪ নং বুথ)এই ঘটনা ঘটে। পরে সাংবাদিকদের দিলীপবাবু বলেন, আমি ভেবেছিলাম হয়তো দেখা হবে না। যাক, দেখা হয়ে গেল! প্রদীপ আমার দশ বছরের পুরনো বন্ধু। ভোটের পরেও বন্ধুত্ব থাকবে। খড়্গপুরে খুব শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে।  এরপরই প্রদীপবাবু বলেন, ‘দিলীপদা ঠিকই বলেছেন। খড়্গপুরে খুব শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হয়েছে। উৎসাহ ও উন্মাদনার সঙ্গে মানুষ ভোট দিয়েছেন। দু’এক জায়গায় ইভিএমে একটু সমস্যা ছিল। ছোটোখাটো কিছু অভিযোগও ছিল। বাদবাকি সব ঠিকই আছে। যিনি জিতবেন, খড়্গপুরের মানুষের জন্য কাজ করবেন। এরপর দু’জনই ওই বুথ থেকে হাসিমুখে পরবর্তী বুথের উদ্দেশে রওনা দেন। 
এলাকার বাসিন্দা কুমারী বেহরা বলেন, এই তো রেল শহর খড়্গপুরের সংস্কৃতি। আমরা সবাই এখানে মিলেমিশে থাকি।  খড়্গপুর শহরে দুই প্রার্থী প্রদীপ সরকার ও দিলীপ ঘোষের সৌজন্য সাক্ষাৎ। বৃহস্পতিবার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ