নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে দলে স্বমহিমায় কামব্যাক করতে সন্ধির পথে হাঁটলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি নিজে সভাপতি থাকাকালীন বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক একেবারেই মধুর ছিল না। কিন্তু কথায় আছে, শত্রুর শত্রু বন্ধু হয়। সদ্য বঙ্গ বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়া শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের মঙ্গলবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠক সেই ‘বন্ধুত্বের বার্তাই’ দিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। কারণ, বিধাননগরের পার্টি অফিসে এই বৈঠকের পর দু’জনের গলাতেই শোনা গিয়েছে দলের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার কথা। দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, দল আমাকে যেভাবে কাজে লাগাবে, যা নির্দেশ দেবে, সেই অনুযায়ী কাজ করব। শমীক জানিয়েছেন, বিজেপিতে আদি নব্য বলে কিছু নেই। সবাইকেই প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য তৃণমূলের বিসর্জন।
২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাজ্য সভাপতির পদ খোয়ানোর পর থেকেই বঙ্গ বিজেপিতে প্রভাব হারাচ্ছিলেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ। তৎকালীন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা থেকে শুরু করে পার্টির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর একটা বড় অংশই সরাসরি দিলীপের বিরোধিতা করতেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে জেতা আসন ছাড়তে হয়েছিল দিলীপ ঘোষকে। উল্টে অন্য আসনে প্রার্থী করায় হারতে হয়েছিল তাঁকে। এই কেন্দ্র বদলের জন্য দিলীপ ঘোষ সরাসরি দায়ী করেছিলেন দলের একটি অংশকে। অথচ ২০১৫ সালে দিলীপ ঘোষ বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর কার্যত গুরুত্ব হারিয়েছিলেন রাহুল সিনহা থেকে শুরু করে আজকের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মতো নেতারা। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য বিজেপিতে দিলীপ ঘোষ কতটা কাজ করার জায়গা পান, সেদিকেই নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের। এরমধ্যে জানা গিয়েছে, আজ বুধবার দিল্লি যাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ। আগামী কাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাজধানী যাবেন রাজ্য সভাপতি শমীক। আরএসএসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁরা বৈঠক করবেন বলে খবর। নিজস্ব চিত্র