সংবাদদাতা, খড়্গপুর: খড়্গপুর পুরসভার অচলাবস্থা কাটাতে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের উপরই ভরসা রাখছে দু’ পক্ষ। বুধবার তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন তৃণমূলেরই ১৫ কাউন্সিলার। নেতৃত্বে আছেন ঋতব্রত তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রদীপ সরকার। আস্থা ভোটে জয় পেতে কল্যাণী দেবীর ভরসা এখন বিজেপি আর কংগ্রেস কাউন্সিলাররাই। বিজেপি কাউন্সিলাররা আবার তাকিয়ে আছেন খড়্গপুর সদরের বিধায়ক তথা পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের নির্দেশের দিকে। দিলীপবাবু কী নির্দেশ দেন, আপাতত সেই অপেক্ষাতেই পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলাররা। শুক্রবার বিজেপির জেলা সভাপতি সমিত মণ্ডল স্পষ্ট জানান, ‘এই বিষয়ে আমরা খড়্গপুর সদরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী দিলীপবাবুর নির্দেশ মেনেই চলব।’ একই কথা বলেছেন, দলের জেলা সহ সভাপতি তথা ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অভিষেক আগরওয়ালও। তৃণমূলের চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে তৃণমূল কাউন্সিলারদের এই অনাস্থাকে ঘরোয়া কোন্দল বলেও কটাক্ষ করেছেন তাঁরা। এদিকে, মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে প্রদীপবাবু, কল্যাণীদেবী দুজনেরই। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর দিকে তাকিয়ে আছেন উভয়েই। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবাশিস ঘোষ বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রদেশ নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করছি সোমবারের মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন প্রদেশ সভাপতি।’
৩৫ আসন বিশিষ্ট খড়্গপুর পুরসভায় তৃণমূলের কাউন্সিলার ২৪। ৬ বিজেপির, ৪ কংগ্রেসের এবং ১ সিপিএমের। বুধবার দুপুরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রদীপ সরকারের নেতৃত্বে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন তৃণমূলের মোট ১৫ কাউন্সিলার। তাৎপর্যপূর্ণ, প্রদীপবাবু বাদ দিয়ে বাকি ১৪ কাউন্সিলার ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে কোনো খবর নেই। আস্থা ভোট হলে তৃণমূলের বাকি ৯ কাউন্সিলার কল্যাণীদেবীর পক্ষেই থাকতে পারেন বলে সূত্রের খবর। তাঁদের তরফে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নমিতা চৌধুরী এদিন বলেন, ‘দলের সঙ্গে (আদি-তৃণমূলের) আলোচনা না করেই অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেছেন ওই ১৪ কাউন্সিলার। তবে আমরা দলের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব।’
আদি তৃণমূলের এই ৯ কাউন্সিলারকে নিয়ে আশাবাদী ঋতব্রত তৃণমূলের প্রদীপবাবুও। তিনি বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে অনাস্থা আনিনি। খড়্গপুরের উন্নয়নের স্বার্থে কাউন্সিলার হিসেবে চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছি।’ কল্যাণীদেবী বলেন, ‘কাজ ঠিকঠাকই চলছিল। অনাস্থা কেন এনেছে জানি না।’ আস্থা ভোট নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের তরফে আমাকে আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বাকি যা হবে দেখতেই পাবেন।’ শুক্রবার বিকেল অবধি আস্থা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার সুপ্রিয় বসু বলেন, ‘আইন মেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি। আস্থা ভোটের আগে পর্যন্ত বর্তমান চেয়ারপার্সনই কাজ চালিয়ে যাবেন।’