Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিলীপ-ঘনিষ্ঠ শমিত চুপিসারে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিজেপি সভাপতি, ক্ষোভ

দিলীপ-ঘনিষ্ঠ শমিত চুপিসারে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিজেপি সভাপতি, ক্ষোভ
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতির আসনে কে বসবেন, তাই নিয়ে জেলাজুড়েই চর্চা চলছিল। তার মধ্যে কার্যত লুকিয়ে দলীয় মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে বিজেপির জেলা সভাপতির আসনে বসলেন দিলীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ শমিতকুমার মণ্ডল। তাঁর বাড়ি খড়্গপুরে। তিনি পেশায় কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী। বুধবার সকালে নতুন জেলা সভাপতির নাম প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ৭টি বিধানসভা এলাকার নেতা-কর্মীরা। জানা গিয়েছে, দলীয় নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই জেলা সভাপতি বাছাই করা হয়েছে। 

Advertisement

একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, জেলা বিজেপির প্রধান কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও কী কারণে খড়্গপুরের একটি কার্যালয়ে চুপিসারে দলীয় মনোনয়ন পর্ব সম্পন্ন হল? এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন, সবার সঙ্গে কথা হয়ে নাম এসেছে, তাঁকে নিয়ে গিয়ে নমিনেশন করানো হয়েছে। আর মনোনয়ন প্রক্রিয়া জেলার পার্টি অফিসে করতে হবে, তার কী মানে আছে! তবে কী কারণে অন্য জায়গায় হয়েছে, তা আমার জানা নেই। উপর থেকে ঠিক করেছে। বিজেপির নেতাদের কথায়, নতুন বিজেপি সভাপতির পরিবারের সদস্যরা একসময় সিপিএমের জেলা ও জোনাল স্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এই ঘোষণা হওয়ার পর খুশি জেলা বিজেপির দিলীপ ঘনিষ্ঠরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক নানা পরিবর্তন নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছেন। দিলীপবাবু নিজের হাতেই মেদিনীপুরের ব্যাটন রাখলেন। এদিন শমিতবাবু বলেন, পার্টি বড় দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করার চেষ্টা করব। 
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে ভালো ফল করেছিল বিজেপি। সেই সময় জেলাজুড়ে দিলীপবাবুর ভালো প্রভাব ছিল। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ভালো ফল করলেও সেই বছরই খড়্গপুর সদর বাই ইলেকশনে প্রথমে ৪৬ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকলেও পরে ২২ হাজার ভোটে হেরে যান বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘনিষ্ঠ প্রেমচাঁদ ঝা। একসময় দিলীপবাবুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তাপস মিশ্রকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর আমলে পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটে ভরাডুবি হয় বিজেপির। মেদিনীপুর পুরসভায় খাতা খুলতে পারেনি গেরুয়া শিবির। পরে সদ্য প্রাক্তন হওয়া বিজেপির জেলা সভাপতি সুদাম পণ্ডিতকে জেলা সভাপতির পদে বসানো হয়। তিনিও দিলীপ ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। তাঁর আমলেও ভালো ফল করতে পারেনি গেরুয়া শিবির। তাঁর সময়কালে জেতা মেদিনীপুর লোকসভা আসনটিও হাতছাড়া হয়। তবে ২০২৬ সালের হাই ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের দিলীপ ঘনিষ্ঠ একজনকে জেলা সভাপতির আসনে বসানোয় তাজ্জব দলের একাংশ। একইসঙ্গে কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাই বুধবার জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা হওয়ার পরও জেলা বিজেপির কার্যালয় কার্যত শ্মশানে পরিণত হয়েছে। এক বিজেপি নেতা বলেন, দিলীপ বিরোধী গোষ্ঠীর প্রভাব জেলায় বেশি। তাই মেদিনীপুর আসনে লোকসভা ভোটের সময় দিলীপবাবু ঘনিষ্ঠদের প্রচারে সেভাবে পাওয়া যায়নি। নতুন জেলা সভাপতির সকলকে নিয়ে চলাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বাহুবলী কোনও নেতাকে জেলা সভাপতির আসনে বসানো উচিত ছিল। তবে তৃণমূল জেলা নেতৃত্বের একাংশ বিজেপির নতুন জেলা সভাপতিকে চেনেন না বলে জানা গিয়েছে। এদিন জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ওঁদের দলে কে জেলা সভাপতি হলেন, তাতে সাধারণ মানুষের কী যায় আসে! আমি অবশ্য তাঁকে চিনি না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ