Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাঁইহাটের দুই ওয়ার্ডে একবছর ধরে জলকষ্ট, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা

দাঁইহাটের দুই ওয়ার্ডে একবছর ধরে জলকষ্ট, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: সামনেই রাস উৎসব, কিন্তু দাঁইহাট শহরের দু’টি ওয়ার্ডে এখনও মিটল না জলকষ্ট। রাস্তা সংস্কারের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে  পানীয় জলের পাইপ লাইন ফেটে যায়। তার ফলে প্রায় এক বছর ধরে চলছে জলকষ্ট। পুরসভা থেকে জলের গাড়ি পাঠিয়েও মিটছে না সমস্যা। শনিবার জলের গাড়ি দেরি করে আসায় ক্ষুব্ধ হন বাসিন্দারা। জলকষ্টের জন্য অনেকে বাড়ি ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বাস করছেন। সামাজিক মাধ্যমেও সরব হয়েছেন বহু লোক। ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে দাঁইহাটে। 
Advertisement
দাঁইহাট-দেওয়ানগঞ্জ ফেরিঘাট যাওয়ার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল ছিল। ওই রাস্তায় সারাদিনে কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। পাশাপাশি ওই রাস্তা ধরেই শ্মশানেও যাওয়া যায়। দাঁইহাট দেওয়ানগঞ্জ ফেরিঘাট পার হয়ে নদীয়ার মাটিয়ারি জেলায় যান মানুষ। মাটিয়ারির মতো দাঁইহাটও কাঁসা পিতল ব্যবসায়ে প্রসিদ্ধ। তাই দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন ওই রাস্তা ধরে অসংখ্য গাড়ি ও বহু মানুষ যাতায়াত করেন। সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ করে সেই রাস্তার সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ হয়েছে প্রায় এক বছর ধরে। রাস্তাটি ৫.৫ মিটার দু’ দিকে চওড়া করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তায় যাতে জল না জমতে পারে তারজন্য দু› দিকে নিকাশি নালাও করা হয়েছে। এই কাজের জন্যই মাটি খোঁড়ার সময়ে জলের পাইপ ফেটে যায়। ওই রাস্তার দু’ দিকেই ২ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের অবস্থান। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার কাজ শেষ হলেও জলের লাইনের সংযোগ মেরামত করার কাজ এখনও শেষ হয়নি। পুরসভা থেকে কয়েকটি জলের গাড়ি পাঠালেও সমস্যা মিটছে না। ওই জলে নোংরা থাকছে। খাওয়া যাচ্ছে না। স্নান, বাসনমাজার জন্য পুকুরের জল তুলে আনতে হচ্ছে। দু’ জন বাসিন্দা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শ্বশুরবাড়ি চলে গিয়েছেন কয়েক মাস আগেই। এদিনও জলের গাড়ি আসতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা পারুল বৈরাগ্য, তারামনি বৈরাগ্য বলেন, বার বার পুরসভায় বলেও কোনও লাভ হয়নি। জলের সমস্যা আমাদের মিটছে না। রাস্তার জন্য একবছর ধরে এভাবে জলকষ্টে ভুগতে হবে ভাবিনি। আরেক বাসিন্দা মনিকা বৈরাগ্য সুব্রত বৈরাগ্য বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলররাও আমাদের খোঁজ নিচ্ছে না। দাঁইহাট পুরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপ রায় বলেন, জলকষ্টের অভিযোগ ঠিক নয়। মাটি খোঁড়ার জন্য পাইপলাইন ফেটে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তারপর ওই দু’টি ওয়ার্ডের বেশির ভাগ সংযোগ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আসলে সে সময়ে অসহযোগিতার জন্য জল সংযোগ জুড়তে সমস্যা হয়েছিল। পুরসভার দাবি, শহরে ১৮টি পাম্প হাউস রয়েছে। আর ২৬টি পানীয় জলের গাড়ি রয়েছে। তাছাড়া অম্রুত প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ