Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাঁইহাটে রাসপূর্ণিমায় উগ্রচণ্ডা শ্যামাকালীর পুজো

দাঁইহাটে রাসপূর্ণিমায় উগ্রচণ্ডা শ্যামাকালীর পুজো
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: একসময় দাঁইহাট শহর ছিল বাণিজ্যকেন্দ্র। ভাগীরথীর তীরে দাঁইহাটকে বলা হতো বারো হাট তেরো ঘাট। জলপথে ব্যবসাকে ঘিরে শহরে কাঁসা-পিতল শিল্প গড়ে উঠেছিল। এই জনপদের নাম ছিল ইন্দ্রাণীনগর। বর্গি হামলার পর থেকে শহরের জৌলুস ফিকে হতে থাকে। তবে রাস উৎসব ঘিরে দাঁইহাটে উৎসবের মেজাজ দেখা যায়। প্রতিবারের মতো এবছরও রাসপূর্ণিমাতেই এখানে অষ্টভুজা উগ্রচণ্ডা শ্যামাকালীর পুজো হয়েছে।
Advertisement
দাঁইহাট শহরের জগন্নাথতলার নবারুণ সংঘ ১৯৭৮ সাল থেকে রাসপূর্ণিমায় উগ্রচণ্ডা শ্যামাকালীর আরাধনা করে আসছে। তবে এই পুজোর প্রচলন ঘিরে একটি ঘটনা রয়েছে। একসময় দাঁইহাটে ভাগীরথীর তীরে পাঞ্জাব থেকে এক তন্ত্রসাধক এসেছিলেন। তিনি নদীর তীরে অষ্টভূজা উগ্রচণ্ডা কালীর সাধনা করতেন। তাঁর কাছে মাঝেমধ্যে যেতেন পেশায় ব্যাঙ্ককর্মী সুখময় মিস্ত্রি। শোনা যায়, ওই তান্ত্রিক সুখময়বাবুকে উগ্রচণ্ডা কালীর ছবি দিয়ে পুজো করার পরামর্শ দেন। সুখময়বাবু সেসময় নবারুণ সঙ্ঘেরই সদস্য ছিলেন। তিনি ক্লাবের সদস্যদের বিষয়টি জানালে তাঁরা রাসপূর্ণিমাতেই অষ্টভুজা উগ্রচণ্ডা শ্যামা কালীর আরাধনা শুরু করেন। প্রথমদিকে ব্রাহ্মণকে গায়ের কয়েক ফোঁটা রক্ত দিয়ে পুজো করতে হতো। তারপর সুখময়বাবু স্বপ্নাদেশ পেয়ে দেবীকে রক্তদান বন্ধ করেন। উগ্রচণ্ডা কালী হলেও দেবীর শান্ত রূপের প্রতিমারই পুজো হয়।
নবারুণ ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সুমিত মণ্ডল বলেন, পাঞ্জাবের ওই তন্ত্রসাধকের কথামতোই আমরা রাস উৎসবে উগ্রচণ্ডা শ্যামাকালীর আরাধনা করি। সুখময়বাবুরা বর্তমানে কাটোয়া শহরে থাকেন। তাঁর ছেলেরা এখনও পুজো দিতে আসেন।
শনিবার নির্বিঘ্নে দাঁইহাটে রাসের শোভাযাত্রা শেষ হয়। এদিন কড়া পুলিসি নিরাপত্তা ছিল। চন্দননগরের আলোর রোশনাই রাসের শোভাযাত্রাকে অনন্য সুন্দর করে তোলে।
সম্পর্কিত সংবাদ