সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: অবশেষে মিলল স্বস্তি। দীর্ঘ কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর কৃষ্ণনগর পুরসভায় ফের শুরু হল ম্যানুয়াল বার্থ সার্টিফিকেট থেকে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট করার প্রক্রিয়া। মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুরসভায় এই পরিষেবা নিতে ভিড় জমাতে শুরু করেন কৃষ্ণনগর শহর ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। রোদ উপেক্ষা করে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় আবেদনকারীদের। পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বহু পরিবারের মধ্যে। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক মাস ধরে ম্যানুয়াল বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাল করার কাজ বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছিলেন বহু মানুষ। ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তি সহ বিভিন্ন কাজে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটের দরকার হওয়ায় অনেকেই পুরসভায় এসে বারবার ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার পর পরিষেবা চালু হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে খুশির ছবি ধরা পড়েছে। কারও সন্তানের স্কুলে ভর্তির জন্য দ্রুত ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট প্রয়োজন, আবার কেউ পুরনো জন্ম শংসাপত্রে নামের বানান বা অন্যান্য তথ্যের ভুল সংশোধন করাতে চাইছেন। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা, শিক্ষা সংক্রান্ত কাজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তা বাড়ায় এই পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহও বেড়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যানুয়াল বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাল করার জন্য সাদা কাগজে মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে। তার সঙ্গে জমা দিতে হবে ম্যানুয়াল বার্থ সার্টিফিকেটের জেরক্স কপি এবং বাবা ও মায়ের আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের জেরক্স কপি। প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পুরসভার তরফে বার্থ সার্টিফিকেট ডিজিটাল করার কাজ করা হবে। বিউটি খাতুন নামে এক গৃহবধূ বলেন, আমার মেয়ের স্কুল থেকে বলেছে বার্থ সার্টিফিকেটটি ডিজিটাল করে নিতে, কিন্ত অনেকদিন ধরে ঘুরেই যাচ্ছিলাম। বুঝতেই পারছিলাম না কবে শুরু হবে। আজ খোঁজ নিতে এসে দেখছি শুরু হয়েছে। এবার সার্টিফিকেটটা করে নিতে হবে। সৌরভ দে নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমার ছেলের নামে বানান ভুল আছে, এতদিন সব কিছুই বন্ধ ছিল, ডিজিটাল চালু হয়েছে, এবার ভুলটা ঠিক করে নিতে হবে। সেই জন্যই এসেছি খোঁজ নিতে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর পরিষেবা চালু হওয়ায় খুশি আবেদনকারীরা। আগামী দিনে পরিষেবা যাতে নিয়মিত ও দ্রুতগতিতে মেলে, সেই দাবিই এখন সাধারণ মানুষের।



