Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদ,২৪ দিন গৃহবন্দি প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী, খোয়ালেন ৩৬ লক্ষ টাকা

দেশের আকাশসীমা রক্ষা করার গুরুদায়িত্ব সামলেছেন যিনি, জীবনের সায়াহ্নে এসে সেই প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মীকেই টানা ২৪ দিন বন্দি থাকতে হল এক অদৃশ্য কারাগারে।

ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদ,২৪ দিন গৃহবন্দি প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী, খোয়ালেন ৩৬ লক্ষ টাকা
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দেশের আকাশসীমা রক্ষা করার গুরুদায়িত্ব সামলেছেন যিনি, জীবনের সায়াহ্নে এসে সেই প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মীকেই টানা ২৪ দিন বন্দি থাকতে হল এক অদৃশ্য কারাগারে। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদে পড়ে খোয়ালেন ৩৬ লক্ষ টাকাও! বীরভূমের রামপুরহাটের বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ওই বায়ুসেনা কর্মী গত ২১ জানুয়ারি এনিয়ে সিউড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্মীর স্ত্রী মারা গিয়েছেন বছর কয়েক আগেই। একমাত্র সন্তান, মেয়ে থাকেন নিউজিল্যান্ডে। রামপুরহাটের তাঁর নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি চেন্নাইয়েও ফ্ল্যাট রয়েছে। এই দুইয়ের মাঝেই কাটছিল তাঁর অবসর জীবন। কিন্তু, হোয়াটসঅ্যাপে আসা একটি ভিডিও কল তাঁর জীবনের চেনা ছন্দটাকে বিভীষিকায় বদলে দেয়। বৃদ্ধের দাবি, গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি তখন চেন্নাইয়েই ছিলেন। তাঁর কাছে একটি ভিডিও কল আসে। ফোনের ওপারে থাকা পুলিশের পোশাক পরিহিত ব্যক্তি নিজেকে আইপিএস অফিসার হিসেবে পরিচয় দেয়। বৃদ্ধকে জানানো হয়, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু সন্দেহজনক লেনদেন দেখা গিয়েছে। বড়সড় আর্থিক তছরুপ হয়েছে। এরপর বৃদ্ধকে ইডি অফিসার পরিচয় দিয়ে আরও একজন ফোন করেন। বৃদ্ধকে জানান, তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সেই মুহূর্ত থেকেই আতঙ্কে কাঁপতে থাকেন বৃদ্ধ।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনাতে গিয়ে বৃদ্ধ বলছিলেন, চেন্নাইয়ের ফ্ল্যাটে প্রথম ন’দিন কার্যত পাথর হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। প্রতি দু’ঘণ্টা অন্তর ভিডিও কলে হাজিরা দিতে হতো সেই অফিসারদের কাছে। ওপার থেকে হুমকি আসত, বাড়ি থেকে বেরোলেই অ্যারেস্ট করা হবে। এমনকি বিদেশে থাকা মেয়ে এবং আত্মীয়দেরও গারদে পোরার ভয় দেখানো হয়। বৃদ্ধের কথায়, ওরা যখন ভিডিও কলে ধমক দিত, আমি যেন নিজস্ব সত্ত্বা হারিয়ে ফেলতাম। আমি সম্পূর্ণ ওদের অধীনে চলে গিয়েছিলাম। নিজের ভালো-মন্দ বিচার করার মতো ক্ষমতাটুকুও অবশিষ্ট ছিল না। এরপর বৃদ্ধ ওই প্রতারকদের অনুমতি নিয়েই চেন্নাই থেকে রামপুরহাটের বাড়িতে ফেরেন। যদিও পিছু ছাড়েনি সেই বিভীষিকা। ফোনের ওপার থেকে হুকুম চলত—কাউকে কিছু জানানো যাবে না, কাউকে ফোন করা যাবে না। এই মানসিক যন্ত্রণার মাঝেই গত ৬ জানুয়ারি এবং ১৫ জানুয়ারি, দুই দফায় মোট ৩৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা।

এরপর ১৯ জানুয়ারি ফের ১৫ লক্ষ টাকার জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়। টাকা জোগাড় করতে না পেরে দিশেহারা বৃদ্ধ নিজের ভাগ্নেকে ফোন করে টাকা ধার চান। মামার মতো স্বচ্ছ্বল মানুষের হঠাৎ কেন টাকা ধার করার মতো অবস্থা হল? সন্দেহ দানা বাঁধে ভাগ্নের মনে। শেষে ভাগ্নের তৎপরতায় মানসিক কারাগার থেকে মুক্তি পান অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা কর্মী। পুলিশের এক কর্তা বলেন, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বা এমন কোনও গ্রেপ্তারি বলে যে আদতে কিছুই হয় না। কোনও আইন রক্ষাকারী সংস্থা ভিডিও কলে কাউকে এভাবে আটক করে না। এসব নিয়ে সচেতন করা সত্ত্বেও কাজ হচ্ছে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ