নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘মুম্বই পুলিশ থেকে বলছি। সাইবার প্রতারণার একটি অভিযোগ আমাদের কাছে জমা পড়েছে। তার তদন্তে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সামনে এসেছে। আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি সংগঠনে টাকা পাঠানো হয়েছে। আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ হচ্ছে।’ এই বলে একাকী এক বৃদ্ধকে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার পরিচয় দিয়ে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয়। অভিযোগ, মুক্তি পেতে আইনজীবীর খরচ বাবদ আদায় করা হয় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। বেলেঘাটার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধের বয়স সত্তর পেরিয়েছে। তিনি ব্যাংক থেকে দু’দফায় ১৪ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা প্রতারকদের দেন। পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধের নাম বৈদ্যনাথ কুণ্ডু। চাউলপট্টি রোডে থাকেন। লালবাজার জানিয়েছে, বেলেঘাটা থানা ও ইস্ট সাবার্বান ডিভিশনের সাইবার সেল ঘটনার তদন্ত করছে।
জানা গিয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর বৈদ্যনাথবাবুর কাছে ভিডিয়ো কল আসে। তাতে মুম্বই পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি কথা বলেন। সেই পুলিশ বলে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আর্থিক তছরুপে বৈদ্যনাথবাবুর মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের উল্লেখ আছে। মোট ৩৭টি সাইবার ক্রাইমের ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে মোবাইল নম্বর। সেই ভুয়ো উর্দিধারীর কথা ভয় পেয়ে মেনে নেন বৃদ্ধ। প্রমাণের জন্য কিছু ভুয়ো প্রমাণও তাঁকে দেখায় জালিয়াতরা। ভুয়ো কল ডিটেলস রেকর্ডের কপি সহ বিভিন্ন তথ্যও পাঠায় হোয়াটসঅ্যাপে। বলা হয়, তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মিউল অ্যাকাউন্ট বা ভাড়ার অ্যাকাউন্ট হিসাবে ব্যবহার করেছে সাইবার জালিয়াতরা। সেই মিউল অ্যাকাউন্ট থেকে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জঙ্গি সংগঠনগুলিতে টাকা গিয়েছে ঘুরপথে। থাইল্যান্ড ও মালেশিয়ার বিভিন্ন ভুয়ো কোম্পানি মারফত সেই টাকা লস্কর-ই-তৈবার বিভিন্ন ‘হ্যান্ডলার’দের কাছে গিয়েছে। ‘মানি ট্রেইল’ এর বেশ কিছু ভুয়ো কাগজও এরপর দেখানো হয় বৃদ্ধকে।
এইসব নথিপত্র দেখে ভয় পেয়ে যান বৃদ্ধ। তাঁর অভিযোগ, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িতে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছিল তাঁকে। মুম্বই পুলিশের আধিকারিক পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি বৃদ্ধকে নির্দেশ দেন, গ্রেপ্তার এড়াতে, মুক্তি পেতে আইনজীবীর খরচ বাবদ টাকা দিতে হবে। সেই মতো প্রতারকের দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দু’টি চেক জমা করেন। মোট ১৪ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা দেন। সেই টাকা দেওয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রতারকরা। এরপরই পুলিশে অভিযোগ জানান বৃদ্ধ।