নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সাইবার প্রতারণা রুখতে নিমতার আবাসনে ২১ সেপ্টেম্বর সচেতনতা শিবির করেছিল পুলিশ। দীর্ঘ আলোচনায় ডিজিটাল অ্যারেস্ট সহ প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে অবগত করা হয়েছিল আবাসিকদের। অথচ, ওই শিবিরের ছ’দিনের মাথায় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ হন আবাসনের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ৭৭ বছর বয়সি ওই শিক্ষক প্রায় ১৮ দিন প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে ডিজিটাল অ্যারেস্ট হয়ে রইলেন। ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে প্রতারকদের পাঠালেন ৩৬ লক্ষ টাকা। শেষপর্যন্ত শিক্ষকের মেয়ে বিষয়টি বুঝতে পেরে নিমতা থানায় বাবাকে এনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করান।
নিমতার ১২০ এমবি রোডের পঞ্চশীল আবাসনের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধ। ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ কল আসে। প্রতারক নিজেকে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর শিক্ষককে জানায়, তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত করা হয়েছে। সমস্ত তথ্য প্রমাণ তাদের হাতে এসেছে। ইতিমধ্যে তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যেকোনও মুহূর্তে তাঁকে ফিজিক্যালি গ্রেফতার করা হবে। আপাতত তাঁকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয়েছে। এমনকি, প্রতারকরা তাঁকে ভুয়ো থানার ছবিও ভিডিও কলে দেখায়। সেখান থেকেই তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ভুয়ো আদালতে বিচারক বসিয়ে কেসের শুনানির লাইভ কভারেজ দেখানো হয়।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে কখনও পুলিশ, আইন আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়নি শিক্ষককে। এসব দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। সম্পূর্ণভাবে প্রতারকদের নিয়ন্ত্রণে চলে যান। তাদের কথায় বাড়িতে মেয়ে সহ পরিবারের কাউকে তিনি বিষয়টি জানাননি। শেষপর্যন্ত তাঁকে কেস থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। ওই বৃদ্ধ চলতি মাসে নিমতা থানা এলাকার এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে গিয়ে নিজের দু’টি ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে ৩৬ লক্ষ টাকা আরটিজিএসের মাধ্যমে পেমেন্ট করেন। তবে ব্যাঙ্কের কর্মীরা বিপুল টাকা তুলে অন্য অ্যাকাউন্টে পাঠাতে দেখে বাধা দিয়েছিলেন। তাঁরা নানা প্রশ্ন করে জানতে চেয়েছিলেন, কেন এইভাবে টাকা তুলছেন, সঙ্গে বাড়ির কেউ আসেনি কেন, পরিবারের সদস্যরা টাকা পাঠানোর কথা জানে কি না, তাও জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বৃদ্ধ প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে সবার সতর্কতাকে আমল না দিয়ে টাকা পাঠিয়ে দেন। মঙ্গলবার বৃদ্ধের মেয়ে বাবাকে ভিডিও কলে কথা বলতে দেখে সন্দেহ করেন। এরপর আড়ি পেতে বাবার কথোপকথন শুনে
তাঁর সন্দেহ হয়। এরপর বাবাকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট সংক্রান্ত প্রতারণার বিষয়টি বুঝিয়ে নিমতা থানায় অভিযোগ দায়ের করান।