Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিশুপাচার মামলার ভয় দেখিয়ে ডিজিটাল অ্যারেস্ট! কোটি টাকা খোয়ালেন বিজ্ঞানী

আপনার বিরুদ্ধে শিশু পাচারের অভিযোগ রয়েছে’! বেঙ্গালুরু সাইবার ক্রাইম থানার ফোন! শুনেই ভয়ে পেয়ে গিয়েছিলেন ক্যান্সার গবেষণায় যুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী।

শিশুপাচার মামলার ভয় দেখিয়ে ডিজিটাল অ্যারেস্ট! কোটি টাকা খোয়ালেন বিজ্ঞানী
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘আপনার বিরুদ্ধে শিশু পাচারের অভিযোগ রয়েছে’! বেঙ্গালুরু সাইবার ক্রাইম থানার ফোন! শুনেই ভয়ে পেয়ে গিয়েছিলেন ক্যান্সার গবেষণায় যুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী। তারপর অন্য ‘আইপিএসে’র ফোন। ‘আপনার আধারকার্ড ব্যবহার করে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও চলছে বেঙ্গালুরুতে’! তারপরই ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয় নিউটাউনের আবাসিক তথা ওই বিজ্ঞানীকে। আয়কর এবং ইডিকে দিয়ে ব্যাংক ভেরিফিকেশনের জন্য ১ কোটি টাকা পাঠাতে বলে প্রতারকরা। তিনি বিশ্বাস করে পাঠিয়েও দেন। পরে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার। প্রতারকরাই বেঙ্গালুরু সাইবার ক্রাইম থানার অফিসার এবং আইপিএস পরিচয় দিয়ে ফোন করেছিল। জীবনের সঞ্চিত অর্থ খুইয়ে তিনি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানীর বয়স ৭২ বছর। গত ১৫ জানুয়ারি প্রতারকরা প্রথমে সাইবার ক্রাইম থানার অফিসার পরিচয় দিয়ে ফোন করে। সেখানেই জানানো হয়, তাঁর বিরুদ্ধে শিশু পাচারের মামলা হয়েছে। তাঁকে যখন জানানো হয়, তাঁর নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খোলা হয়েছে, তখন তিনি অবাক হন। তিনি প্রতারকদের বলেন, তাঁর প্যান কার্ডে ভুল আছে। তাহলে কী করে ওই ভুল কার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা হল? প্রতারকরা তখন তাঁকে ব্যাংকের ডেবিট কার্ড এবং আধার কার্ড দেখায়। সেগুলি আদতে ভুয়ো। কিন্তু, তিনি সেই সময় বিশ্বাস করে ফেলেন। তাঁর কাছে আরও কিছু নথিপত্র পাঠানো হয়। তারপরই তিনি ওই টাকা পাঠিয়ে দেন ব্যাংক ভেরিফিকেশনের নামে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কোনও অ্যারেস্ট নেই। সচেতন হলে এই ধরনের প্রতারণা থেকে রেহাই মিলতে পারে। প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিন। কোনওরকম আর্থিক লেনদেন করবেন না।

অন্যদিকে, ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড তথা বিনিয়োগ প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ২ কোটি টাকা খুইয়েছেন নিউটাউনের ৬৩ বছরের এক বাসিন্দা। তিনিও বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রতারকরা ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারপর একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে তাঁকে হাই রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেয়ার ট্রেডিংয়ের টোপ দেয়। তাতে প্রভাবিত হয়ে তিনি কয়েক দফায় ২ কোটি টাকা দিয়ে ফেলেন। কিন্তু, রিটার্ন তো দূরের কথা, তিনি বিনিয়োগ করা অর্থই ফিরে পাননি। তারপরই বুঝতে পারেন, প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ