নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একদিকে ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করা, অন্যদিকে অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাপে বিনিয়োগের টোপ দেখিয়ে লুট। সাইবার অপরাধীদের জালে ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছেন নিরপরাধ মানুষ। এমনই দু’টি পৃথক ঘটনায় সম্প্রতি প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন হাওড়া শহরের দুই বাসিন্দা। ভিনরাজ্যে ছড়িয়ে থাকা এই সাইবার অপরাধীদের ধরতে তৎপর ছিলেন গোয়েন্দারা। পশ্চিম দিল্লি ও কানপুর থেকে প্রতারণা চক্রের দুই পান্ডাকে গ্রেপ্তার করেছে হাওড়া সিটি পুলিস। বিনিয়োগ জালিয়াতির ঘটনায় পশ্চিম দিল্লির উত্তমনগর থেকে সুরজিৎ কুমার নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণার অভিযোগে কানপুরের গোয়ালতলি থেকে বিশাল সিং নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। দু’জনকেই ট্রানজিট রিমান্ডে বৃহস্পতিবার হাওড়ায় নিয়ে এসে আদালতে পেশ করেছে পুলিস।
গত এপ্রিল মাসে বি গার্ডেন থানা এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণার ঘটনা ঘটে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণী শিবপুরের আইআইইএসটিতে পিএইচডি করছেন। গত এপ্রিলে একটি অচেনা নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করে সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে কেউ বা কারা ডিজিটাল অ্যারেস্টের হুমকি দেয়। বলা হয়, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নাকি বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। বড় একটি অপরাধের ঘটনায় এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। থানায় এফআইআর ও আদালতের নির্দেশনামার ভুয়ো কপিও দেখানো হয় ওই তরুণীকে। এরপর ডিজিটাল অ্যারেস্টের হাত থেকে বাঁচতে প্রতারকদের কথা অনুযায়ী তিনি ১৫ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে দফায় দফায় ২৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা তাদের পাঠানো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। মাসখানেক পর বুঝতে পারেন, প্রতারিত হয়েছেন তিনি। তখন সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, তরুণীর পাঠানো টাকা অন্তত ১৫ থেকে ১৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দিয়েছে প্রতারকরা। এরমধ্যে কানপুরের বাসিন্দা বিশাল সিংয়ের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ৬ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। এরপরেই কানপুরের গোয়ালতলিতে অভিযান চালিয়ে প্রতারণায় অভিযুক্ত বিশাল সিংকে গ্রেপ্তার করেন হাওড়া সিটি পুলিসের গোয়েন্দারা। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১ লক্ষ ৯ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, চলতি বছরের মে মাসে ভুয়ো ইনভেস্টমেন্ট অ্যাপে বিনিয়োগ করে ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হন শিবপুরের নবীন মুখার্জি লেনের এক প্রবীণ বাসিন্দা। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাপে যুক্ত করে প্রতারকরা। সেখানে টাকা বিনিয়োগ করলে প্রচুর লাভ মিলবে, এমন টোপ দেওয়া হয় বৃদ্ধকে। এরপর তিনি গ্রুপে দেওয়া বিভিন্ন কিউআর কোডে দফায় দফায় ৩৯ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে লভ্যাংশ না পাওয়ার প্রতারণার ঘটনা বুঝতে পারেন তিনি। সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হন। পুলিস জানিয়েছে, এই প্রতারণা চক্রে অন্যতম অভিযুক্ত পশ্চিম দিল্লির উত্তমনগরের বাসিন্দা সুরজিৎ কুমারের অ্যাকাউন্টে ১৬ লক্ষ টাকা ঢুকেছে। তাকে সেখান থেকে চলতি সপ্তাহে গ্রেপ্তার করে পুলিস।
হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘দুটি প্রতারণার ঘটনায় প্রচুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতারণা চক্রের বাকি পান্ডাদের নাগাল পেতে ধৃত দু’জনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকি টাকা দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’ নিজস্ব চিত্র